চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে পূর্বের ব্যবস্থা চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদ। তবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারী বিশ্ববিদ্যালয় চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক জহুরুল আলম আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, 'হয়তো এমন একটি আবেদন করা হয়েছে। তবে পোষ্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন এখনো আসেনি। তাঁরা উপাচার্যের কাছে আবেদন করে থাকতে পারেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলে সেটি আমার জানার কথা। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চিঠি আমার কাছে আসেনি।'এ বিষয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর মাননীয় উপাচার্য ও ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভর্তি কমিটির সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও কো-অর্ডিনেটরদেরও অবগত করা হয়েছে।আবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পেয়ে আসছেন। যেহেতু এই কোটা মূল আসনসংখ্যার বাইরে নির্ধারিত, তাই এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আসনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তবে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি থেকে পোষ্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।আরও পড়ুন: চবিতে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, এক আসনে লড়ছেন ৮০ জনআবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেছেন।চলতি বছর চারটি ইউনিট ও তিনটি উপ-ইউনিটে মোট ৩ হাজার ৫৯৭টি সাধারণ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি কোটা হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে ৫৬৮টি আসন। তবে এবছর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য পোষ্য কোটা রাখা হয়নি। যদিও অন্যান্য ৯ ধরনের কোটা বহাল রয়েছে।বহাল থাকা কোটাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান,ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী,অনগ্রসর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, বিদেশি শিক্ষার্থী, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালিদের জন্য অ-উপজাতি কোটা, শারীরিক প্রতিবন্ধী, বিকেএসপির খেলোয়াড়, পেশাদার ক্রীড়াবিদ, এবং দলিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী। পাশাপাশি, এবছর ভর্তি পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জিপিএ যুক্ত করা হচ্ছে না।