নুনইয়া। সবে মাত্র এক বছর হলো বয়স। সবই ঠিকঠাক চলছে। অন্যদিনের চেয়ে কিছুটা নীরব। ধীরে ধীরে শরীরটা নীল হয়ে আসলো। কেমন যেন করছে। পরিবার প্রথম আঁচ করতে না পারলেও পরে দ্রুত নিয়ে আসে শ্যামলী শিশু হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশু তো আর নেই। দেখলেই মনে হবে, কী চঞ্চল শিশু! এখনও তাকিয়ে। সবে মাত্র মা বাবাকে ডাকা শিখেছে। অন্য কথা না বলতে পারলে গাই-গুই করতে শিখেছে। স্নেহ পাওয়া বা নেওয়ার কৌশল ঠিকই রপ্ত করে ফেলেছে। এমন সময় চলে যাওয়া সহ্য করার মতো নয়। বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা। স্বজনরা চেষ্টা করছেন চোখ বন্ধ করে দিতে। একজন মাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। এ চিত্র শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর শিশু হাসপাতালের। দিনভর হাসপাতালে ঘুরে যত রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে বেশিরভাগ ঠাণ্ডজনিত রোগ নিয়ে এসেছে। এরমধ্যে নুনইয়ার রোগ নির্ণয় না হলেও চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে শিশুটি। পরিবার বুঝে উঠার আগেই সর্বনাশ হয়ে গেছে। দেড় বছরের সাবিতকে নিয়ে মিরপুর কচুক্ষেত থেকে এসছেন তার মা। ঠাণ্ডা জ্বর কয়েকদিন। থেমে থেমে কাশি দিচ্ছে। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসককে দেখাবেন। চার মাসের রুফাইদা। বাসার আমিন বাজার তারও ঠাণ্ডা লেগেছে। মা বলছেন, বাচ্চাদের ঠান্ডা যায়ই না। ঠান্ডা লেগেই থাকে। এই শীতে কী করবো, বুঝতে পারছি না! বাবার কোলে সিরিয়ালে থাকা আরেক শিশু হুযাইফা (১৩ মাস)। হেমায়েতপুর থেকে আসছে সেও। পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সন্দেহ করছে বাবা-মা। বাকিটা ডাক্তার কী বলে তার ওপর নির্ভর করছে। নুনইয়া, সাবিত, রুফাইদা শুধু নয়, এই শীতে ঠান্ডা এবং নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ অন্য রোগীর তুলনায় বেশি। শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ব বিভাগের গেলো ১ জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগে মোট রোগী আসছে ২৪৮ শিশু। তন্মধ্যে সাধারণ ঠাণ্ডার রোগী ৯৮ এবং নিউমোনিয়া আক্রান্ত ৪৭ জন। নিউমোনিয়া আক্রান্ত ৫ জনকে ভর্তি দেওয়া লাগছে। মারা গেছে, ৬জন। বর্তমানে ৪৭ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত ভর্তি আছে। রোগতত্ত্ব বিভাগের কিংকর ঘোষ বলেন, গত এক বছরের মধ্যে এই ডিসেম্বরে মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্তের হার বেশি। ডিসেম্বরে ৩২১ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহের জন্য এখন নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস আর ঠান্ডা-কাশির রোগী বেশি আসছে। এই সময়ে যেকোনো বয়সের মানুষের পাশাপাশি বাচ্চাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক। এসইউজে/এসএনআর/জেআইএম