খুলনায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কনকনে এই ঠাণ্ডায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে পিঠা বিক্রি। হরেক রকমের পিঠা বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর এ সব পিঠার দোকানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নগরীর শান্তিধাম মোড়, খালিশপুর মোড়, নতুন রাস্তা, নিউ মার্কেট, সাউথ সেন্ট্রাল রোড ও রুপসা বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় একাধিক পিঠার দোকান বসেছে। এসব দোকান ঘুরে দেখা যায়, নানা ধরনের পিঠার পাশাপাশি সবেচেয়ে ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা বানাতে ও বিক্রি হচ্ছে বেশি। নারিকেল, আতব চালের গুঁড়া ও খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো হচ্ছে ভাপা পিঠা। চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা বানিয়ে তার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ধনেপাতা, সরিষা, কালোজিরা এবং মরিচসহ নানান ধরনের ভর্তা। পিঠা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত মৌসুমে মানুষ অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় পিঠা বানিয়ে তা বিক্রি করছেন। প্রতি পিস চিতই পিঠা বিক্রি হচ্ছে ৫-১০ টাকা করে। আর ভাপা পিঠা বিক্রি হয় ১০-১৫ টাকা করে। এতে একেকজন পিঠা বিক্রেতার দিনে আয় হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। নগরীর শান্তিধাম মোড়ে পিঠা খেতে এসে ফজলে রাব্বী বলেন, বন্ধুরা মিলে ঘুরতে বের হয়েছি। শীতের সময়ে পিঠা খেতে মজাই লাগে। এজন্য সবাই মিলে এসেছি। চিতই পিঠার সঙ্গে ধনিয়া পাতার মসলা ও ঝোলা গুড় দিচ্ছে। খেতে ভালোই মজা লাগে। নিউ মার্কেট চত্ত্বরে পিঠার দোকানে কথা হয় সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, শীতের সময় পিঠা খেতে ভালো লাগে। ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা বেশি ভালো লাগে। খুলনাতে ভাপা ও চিতই পিঠাই পাওয়া যায়। তবে গতবারের তুলনায় ভাপা পিঠার দাম এবার একটু বেশি। কোথাও ১৫ টাকা আবার সাইজে একটু বড় হলে ২০ টাকাতেও বিক্রি করছে। শান্তিধাম মোড়ের পিঠা বিক্রেতা আলামিন বলেন, প্রতিবার শীতেই দোকান নিয়ে বসি। সন্ধ্যার পরে বেচা-বিক্রি ভালোই হয়। প্রতিদিন আনুমানিক ২০০-২৫০ পিস ভাপা পিঠা বিক্রি হয়। ভাপা পিঠা গতবার ১০ টাকা করে বিক্রি করেছি। এবার সবকিছুর দাম বেশি। তাই ১৫ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্য একজন বিক্রেতা কামরুল গাজী বলেন, চিতই পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে গুড়, মসলা দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা সরিষা বাটা, গুড়, ধুনিয়া পাতার মসলা বেশি পছন্দ করেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৩৫০ পিঠা বিক্রি হয়। রুপসা মোড়ের পিঠা বিক্রেতা কামরুন নাহার জানান, বছরের শীতের সময় পিঠার দোকান নিয়ে বসেন তিনি। এতে লাভ ভালো হয়। সন্ধ্যা হলে ১৫০-২০০ পিস পিঠা এক রাতেই বিক্রি হয়। প্রতিদিন ৫০০-৭০০ টাকা লাভ হয়। আরিফুর রহমান/এনএইচআর/জেআইএম