যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি প্রার্থী আশাদুল হক আশা হত্যা মামলায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় এনামুল হক নসু নামে একজনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।মামলার তদন্ত শেষে শনিবার (৩ জানুয়ারি) আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ।অভিযুক্ত আসামিরা হলেন: ঝিকরগাছার ছুটিপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে বিপ্লব হোসেন, মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে আহম্মদ আলী, মহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিব হোসেন, আলী আহম্মেদের ছেলে জাহাঙ্গীর, শাহাদত মোড়লের ছেলে খলিলুর রহমান, মৃত রব্বানী মোড়লের ছেলে আব্দুল আলিম, কাগমারী গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে ওলিয়ার রহমান, মোহাম্মদ লুৎফরের ছেলে মোহম্মদ মহর, মৃত তফসীর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, সাহাঙ্গীর, জিউলীগাছা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কালা জাহাঙ্গীর, রুহুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম, আব্দুল হাকিমের ছেলে আলমগীর হোসেন, আব্দুল গফুর কসাইয়ের ছেলে আলম, মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, মোহাম্মদপুর গ্রামের হচেন আলীর ছেলে আরব আলী, বালিয়া গ্রামের মৃত শের আলীর ছেলে জুল হোসেন ও মৃত আবুল কাশেমের ছেলে লতিফ।আরও পড়ুন: হাদি হত্যা: ফয়সালের ভিডিওবার্তা নিয়ে যা বললেন ডিএমপি কমিশনারমামলায় উল্লেখ করা হয়, আশাদুল হক আশা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা হামলার কারণে গ্রাম ছেড়ে শার্শার বেনাপোলে বাড়িঘর করে বসবাস শুরু করেন। এক পর্যায়ে আশা কাজের সন্ধানে বিদেশে চলে যান। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। আশা গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতির নির্বাচন করবেন বলে স্থানীয় বাজারে ৫ মে নিজস্ব দলীয় কার্যালয় ও প্রচার শুরু করেন। এতে বাঁধে বিপত্তি। প্রতিপক্ষ হয়ে যায় তারই দলের লোকজন। আশাদুল ইসলাম আশা ছুটিপুর বাজারের একটি কাগমারী মোড়ে একটি নিজস্ব কার্যালয় বানান। গত ১০ মে আশা ও তার ভাই মহিদুল থেকে লোকজন নিয়ে অফিসে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে জামতলা মোড়ে পৌঁছালে তারই দলীয় প্রতিপক্ষের লোকজন বাঁধা দেয়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় আশা ও মহিদুল গুরুতর আহত হয়। আহতদের প্রথমে যশোর পরে আশাকে ঢাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় নিহতের বোন বালিয়া গ্রামের মফিজুর রহমানের স্ত্রী নাছিমা বেগম বাদী হয়ে ১১ মে ঝিকরগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় ওই ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত আলম, সাদ্দাম ও লতিফকে পলাতক দেখানো হয়েছে।