সিরাজগঞ্জে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ

গত কয়েক দিন ধরেই শীত জেঁকে বসেছে যমুনা পাড়ের সিরাজগঞ্জে। আর শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। আর এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে যোগ হয়েছে ঠান্ডা হিমেল বাতাস। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানান রোগবালাই। শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই নিউমোনিয়া, সর্দি ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসছে অভিভাবকেরা। তবে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ রোগী বেশি থাকায় মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও সেবিকাদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতেসিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থেকে ৬ মাস বয়সী শিশু লামিয়ার বাবা আসলাম আলী বলেন, ‘৪ দিন ধরে আমার বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে। ৩ দিন ধরে জেলার এই সদর হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখন একটু ভালো হয়েছে। আমার মতো আরও অনেকেই তাদের শিশুদের নিয়ে এই হাসপাতালে এসেছে।’দেড় বছর বয়সী ডাইডিয়ায় আক্রান্ত শিশুর মা মরিয়ম বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে বারান্দায় ডাইরিয়া আক্রান্ত শিশুদের রাখা হয়েছে। ওয়ার্ডের ভেতরে ডাইরিয়া আক্রান্ত রোগীদের রাখা হয় না। এ জন্য আমার মতো যারা ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে এসেছেন তারা সবাই বারান্দাতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এতে আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে।’সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্ন নার্স সাদিয়া পারভিন বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে সিরাজগঞ্জে তীব্র শীত থাকায় প্রতিদিনই এখানে শীত জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসছে অভিভাবকেরা। অনেক রোগীর চাপ সামলাতে আমাদেরকে বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও আমাদের সাধ্যমত আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’