বিয়ের আরবি শব্দ নিকাহ। এর অর্থ দুটি জিনিস একত্রিত করা। কখনও কখনও নিকাহ বন্ধন বা চুক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় বিয়ে হলো, এমন একটি চুক্তি যাতে বিয়ে দেয়া বা বিয়ে করা ইত্যাদি শব্দের মাধ্যমে উপভোগ বা একত্রে থাকা বুঝায়।অনেকে জানতে চান, বাসর রাতে নফল নামাজ পড়া, কী বলে ইসলাম? এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, বিয়ের প্রথম রাতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে দুই রাকাত নামাজ পড়া মুস্তাহাব। ইবনে আবি শাইবা শাকিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে এক লোক এসে বলল, আমি এক যুবতিকে বিয়ে করেছি। আমি আশঙ্কা করছি- সে আমাকে অপছন্দ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আব্দুল্লাহ বললেন, মিল-মহব্বত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। দূরত্ব ও ঘৃণা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আল্লাহ যা হালাল করেছেন শয়তান সেটাকে তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় করে তুলতে চায়। যখন সে তোমার কাছে আসবে তখন তাকে তোমার পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়ার নির্দেশ দেবে। (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা ১৭১৫৬) আরও পড়ুন: যাদের গুনাহ পাহাড়সম, তাদের জন্যও আছে তওবার সুসংবাদ বিয়ের পর বাসর রাতে স্বামী-স্ত্রীর প্রথম সাক্ষাতে উভয়ে স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে জামাআতের সঙ্গে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা উত্তম। নামাজের পর নব দম্পতি পরস্পরের জন্য দোয়া করবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বর্ণনায় দোয়াটি তুলে ধরা হলো- اَللّهُمَّ بَارِكْ لِىْ فِىْ أَهْلِىْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِىَّ، اَللّهُمَّ اجْمَعْ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ بِخَيْرٍ و فَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লি ফি আহলি, ওয়া বারিক লাহুম ফিইয়্যা; আল্লাহুম্মাঝমা বাইনানা মা জামাতা বিখাইরিন ওয়া ফাররিক্ব বাইনানা ইজা ফাররাক্বতা ইলা খাইরিন। (আদাবুয যিফাফ, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক) অর্থ: হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দান কর এবং তাদের স্বার্থে আমার মাঝে বরকত দাও। হে আল্লাহ! তুমি যা ভাল একত্রিত করেছ তা আমাদের মাঝে একত্রিত কর। আর যখন কল্যাণের দিকে বিচ্ছেদ কর তখন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ কর।