নারী ফুটবল লিগে কারো কারো পারিশ্রমিক ১০ হাজার টাকা

১ বছর ৮ মাস পর শুরু হয়েছে নারী ফুটবল লিগ। তবে এমন এক বাস্তবতা মেনেই এই লিগ মাঠে গড়াচ্ছে, যা মোটেও খেলোয়াড়বান্ধব নয়। পুরো লিগ খেলে কেউ কেউ পাবেন মাত্র ১০ হাজার টাকা। কয়েকটি ক্লাবের ক্যাম্প ও আবাসন ব্যবস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ।২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে নারী ফুটবল লিগ। এই লিগকে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য এশিয়ান কাপের বড় প্রস্তুতি বলেই মনে করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। তবে বাস্তবতা কি সত্যিই তাই?ফুটবলকে পেশা হিসেবে নিয়ে অনেক নারী ফুটবলার পরিবারের হাল ধরেছেন। বাড়তি কিছু আয়ের আশায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও এই লিগের অপেক্ষায় থাকেন। তবে জাতীয় দলে থাকা কয়েকজন ফুটবলার বাদে সবার আশায় একপ্রকার গুড়েবালি। নামমাত্র চুক্তিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই খেলতে হচ্ছে এই লিগ।জাতীয় দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের অবস্থা শোচনীয়। নারী ফুটবলের একমাত্র এই লিগে ১০টি ম্যাচ খেলে কোনো কোনো ফুটবলারের পারিশ্রমিক মাত্র ১০ হাজার টাকা, যা বর্তমান বাস্তবতায় নারী ফুটবলারদের কঠিন অবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।আরও পড়ুন: জয় দিয়ে বছর শুরু আবাহনীর, কিংসকে রুখে দিয়েছে ফকিরেরপুলখোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারী ফুটবল লিগের বেশ কয়েকটি ক্লাবে এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের সঙ্গে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এসব ফুটবলার প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক হলেও ১০ হাজার টাকার চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছে সময় সংবাদ।বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাসরিন একাডেমিও রয়েছে এমন আর্থিক সংকটপূর্ণ চুক্তির তালিকায়। দলটি জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক একজন খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে পেরেছে। বাকি খেলোয়াড়দের নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন একাডেমি থেকে, যাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে নামমাত্র অর্থে। আর্থিক সংকট এতটাই প্রকট যে, এই চ্যাম্পিয়ন দলেও রয়েছেন এমন খেলোয়াড়, যারা খেলছেন ১০–১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে।দলটির কর্ণধার নাসরিন আক্তার এক প্রশ্নের জবাবে সময় সংবাদকে বলেছেন, ‘থাকতেও পারে (১০–১৫ হাজার টাকার চুক্তির খেলোয়াড়)। চুক্তি তো গোপন থাকাই ভালো।’আরও পড়ুন: নাসরিন একাডেমিকে গোলবন্যায় ভাসালো রাজশাহী স্টারসজানা গেছে, বেশ কিছু ক্লাব ঢাকায় এক মাসের জন্য ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করেছে। এসব আবাসনের মান, অনুশীলনের সুযোগ ও পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।এদিকে এবারের নারী ফুটবল লিগে অংশ নিচ্ছে মোট ১১টি ক্লাব। ঢাকার কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামই এই লিগের একমাত্র ভেন্যু। মাত্র ৩৩ দিনের মধ্যে ৫৫টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।সরেজমিনে দেখা গেছে, ফ্লাডলাইটেরও সীমাবদ্ধতা। আলোর স্বল্পতা স্পষ্ট। পাশাপাশি বিকল্প ভেন্যুর অভাব এবং ঠাসা সূচির কারণে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও খেলার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। টার্ফ মাঠে পরপর একাধিক খেলা হওয়ায় চোটের শঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা।