আয়-সম্পদে এগিয়ে জাতীয় পার্টির আনিছুল, পিছিয়ে আজহারুল

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের তিন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মধ্যে আয় ও সম্পদে এগিয়ে আছেন আনিছুল ইসলাম মন্ডল। তিনি জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী। এরপরের অবস্থানে আছেন বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার। সেইসঙ্গে নগদ অর্থের দিক থেকেও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের চেয়ে এগিয়ে আছেন এই দুই প্রার্থী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। হলফনামার তথ্যমতে, এটিএম আজহারুল ইসলাম কৃষিখাত থেকে বছরে ৩০ হাজার টাকা ও নিজ দল থেকে ভাতা হিসেবে ৫৫ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া ইবনে সিনায় ১০ টাকা মূল্যের ৪৭৬টি শেয়ারের দাম চার হাজার ৭৬০ টাকা উল্লেখ করলেও আয়ের পরিমাণ উল্লেখ নেই। তবে সবশেষ ২০২৫ সালে আয়কর রিটার্নে তিনি এক লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৬ টাকা আয় দেখিয়েছেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আজহারুল ইসলামের নগদ ৪৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৯ লাখ ১৩ হাজার ২৮৬ টাকা, ইবনে সিনায় ৪৭৬টি শেয়ারের বর্তমান মূল্য এক লাখ ৪৮ হাজার ৯৪০ টাকা, ৪৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া চার বিঘা কৃষিজমি উল্লেখ করা হয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে এটিএম আজহারুল ইসলামের চার বিঘা কৃষি জমি, অকৃষি জমি ১০ শতক, বদরগঞ্জের বালুয়াঘাটে একটি টিনশেড এবং অপর একটি টিনশেড বাড়ি (জায়গার নাম উল্লেখ নেই) রয়েছে। সবমিলিয়ে যার বর্তমান মূল্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা। তার নামে ১৬টি ফৌজদারি মামলা ছিল বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আজহারুল ইসলাম। সেইবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আজহারুল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালে ২২ আগস্ট রাজধানীর মগবাজার‌‌ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরপর ওই রায় রিভিউ চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর রিভিউ শুনানি শেষে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এটিএম আজহারুল ইসলামকে আপিলের অনুমতি দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। পরবর্তীতে ২৮ মে উচ্চ আদালতের রায়ে খালাস পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হন এটিএম আজহারুল ইসলাম। অন্যদিকে, এই আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল তার হলফনামায় আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসা থেকে বছরে ১৬ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ টাকা দেখিয়েছেন। এছাড়া তার নগদ অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৪ টাকা, ব্যাংকে জমা আছে তিন হাজার ১২ টাকা, সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দামের জিপগাড়ি, ১৬ হাজার টাকার শেয়ার, ৫০ ভরি সোনা, ৭৫ হাজার টাকার ইলেক্ট্রিক পণ্য ও ৬৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে ১১ দশমিক ৮৫ একর কৃষিজমি, ২ দশমিক ৮২ একর অকৃষি জমি, একটি বাণিজ্যিক ভবন ও একটি বাড়ির মোট অর্জনকালীন মূল্য আট কোটি ৪৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩০ টাকা দেখানে হয়েছে। ২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ ১৬ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৬ হাজার ২২৮ টাকা উল্লেখ করেছেন আনিছুল ইসলাম মন্ডল। নিজের এবং পরিবারের কোনো সদস্যের দায় ও ঋণ নেই। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার পেশা হিসেবে কৃষি ও ব্যবসা উল্লেখ করলেও কৃষিখাত থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার নগদ আছে তিন লাখ টাকা, ব্যাংকে জমা আছে দুই হাজার, একটি মাইক্রোবাসসহ নিজের বর্তমান অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, গৃহিণী স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকার ডিপোজিট ও ২১ ভরি সোনার বর্তমান দাম ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ছেলের এক লাখ টাকার একটি মোটরসাইকেল রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৫ একর কৃষিজমি, বাড়ি ও মৎস্য খামারের বর্তমান মূল্য দুই কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ৪৭ শতক কৃষি জমি, যার বর্তমান মূল্য ৫ লাখ টাকা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া নির্ভরশীল হিসেবে ছেলের নামে ৩৭ শতক, মেয়ের নামে ৩৫ ও নিজের ৯৭ শতাংশ কৃষি জমি উল্লেখ করলেও মূল্য উল্লেখ করেননি। সবশেষ আয়কর রিটার্নে নিজের সম্পদের পরিমাণ ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৯ টাকা উল্লেখ করেছেন এবং আয়কর দিয়েছেন তিন হাজার টাকা। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের কোনো দায় ও ঋণ নেই। মোহাম্মদ আলী সরকার ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দেন। জিতু কবীর/এসআর/এমএস