আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার দ্বিতীয় দিন আজ। ঘন কুয়াশায় সকালে লোকসমাগম না থাকলেও বিকেলে সেটি বাড়তে থাকে। তবে তেমন বেচাকেনা হয়নি। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, মেলার প্রথম দিকে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে। তবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মেলা জমে উঠবে। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে আশিক ফ্যাশনের বিক্রয় কর্মী সানি রেজাউলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘মেলার প্রথম দিকে মানুষ ঘুরতেই বেশি আসে। এ সময় খুব একটা কেনাকাটা করে না। মাসব্যাপী মেলার মাঝামাঝি সময়ে যখন সব স্টলে ছাড়ের হিড়িক পরে তখন থেকে জোরালোভাবে বেচা বিক্রি শুরু হয়।’ লিজা ফুড অ্যান্ড পঞ্চরসের আচার ঘর ডলের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ‘পরপর বেশ কয়েকটি মেলায় সেলস নিয়ে কাজ করছি। মেলার প্রথম দিকে বেচাকেনা তুলনামূলক কমই হয়। অনেকে মেলায় কোথায় কী রয়েছে ঘুরে দেখতে আসেন। মেলায় যখন স্টলগুলোতে বিভিন্ন অফার ও ছাড়ে বিক্রি শুরু হয় তারা কেনাকাটার জন্য এ সময়টাই বেছে নেন।’ আমিরা বিডি ডট কমের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘কুয়াশা ও শীতের দাপট মানুষজন ঘর থেকে। তবে এরমধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থী বাড়বে। তখন বিক্রিও ভালো হবে। আশা করছি খুব দ্রুতই মেলা জমে উঠবে। মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় গাজীপুর থেকে আগত জাহিদুলের সঙ্গে। পরিবার নিয়ে তিনি বাণিজ্য মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের বায়না ছিল প্রথম দিন মেলায় আসবেন। ব্যস্ততায় তা পারিনি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। ঘুরে দেখছি কোথায় কি রয়েছে এবং মেলার হালচাল। পছন্দের পণ্য পেলে কেনাকাটার ইচ্ছাও রয়েছে। মেলায় বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে এসেছেন আসলাম মোল্লা। তিনি বলেন, আমার পাশের এলাকায় বাণিজ্য মেলা। সেটি দেখতে নারায়ণগঞ্জ থেকে কিছু বন্ধুবান্ধব এসেছে। তাদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসলাম। তেমন কোনো কেনাকাটা হয়নি শুধুই ঘুরাঘুরি করছি। কিছু পণ্য পছন্দ করেছে। তবে মেলা জমে উঠলে যখন অফার ও ছাড় শুরু হবে। তখন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে। নাজমুল হুদা/আরএইচ/এমএস