ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটকে অভিযান চালায় মার্কিন বিশেষায়িত বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’। ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামের অভিযানে ব্যবহার হয় দেড়শ’র বেশি গোয়েন্দা নজরদারী ও যুদ্ধবিমান। দুই ঘণ্টা ২০ মিনিটেই শেষ হয় অভিযান।ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর আগে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গতিবিধি, খাবার, পোশাক, এমনকি পোষা প্রাণীর বিষয়েও কয়েক মাস ধরে নজরে রেখেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। এই কাজে সহায়তা করেন মাদুরো প্রশাসনের ভেতরের একজন। ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামে এই অভিযান এক বছরের পরিকল্পনা ও মহড়া শেষে গেল ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হয়। কারাকাসে মাদুরোর সেফ হাউস বা নিরাপদ বাসস্থলের হুবহু প্রতিকৃতিও তৈরি করা হয়েছিল। অত্যন্ত সুরক্ষিত সেই বাসভবনে কীভাবে প্রবেশ করবেন, তার অনুশীলনও চালিয়েছিল মার্কিন সেনারা। অভিযানের জন্য ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশ আসে গেল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে। কয়েক দিনের অবস্থা এবং আবহাওয়া বিবেচনায় অপারেশন শুরু করতে অপেক্ষা করা হয়। মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনের বরাতে বিবিসি জানায়, ‘ক্রিসমাস এবং নিউ ইয়ারের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। অপেক্ষা ছিল শুধু সবুজ সংকেতের।’ আরও পড়ুন: ‘মাদুরোই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট’, ঘোষণা নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের! ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানে যুদ্ধবিমান ও গোয়েন্দা নজরদারীসহ ১৫০টিরও বেশি বিমান ব্যবহার করা হয়। কারাকাসে অভিযান শুরু হয় স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে। চলে দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে। হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে লা কার্লোটা এয়ারবেস, জেনারালিসিমো ফ্রান্সিসকো দে মিরান্ডা এয়ারফিল্ড এবং পোর্ট লা গুয়েরা ছিল। বিবিসি জানায়, ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা মাদুরোর ঘরে প্রবেশের পর গুলির ঘটনাও ঘটে। এসময় মাদুরো নিরাপদ কক্ষে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ধরা পড়ে যান। অভিযানের সময় এক মার্কিন সেনা আহত হলেও সবাই নিরাপদে দেশটি ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।