বাংলাদেশের নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, গত কয়েক মাস ধরে দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহার সারা বিশ্বের রফতানি বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও, যেখানে দেশের রফতানি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা খাচ্ছে।রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, এছাড়া ভারত ও চীনসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ওই বাজারে রফতানি করতে পারছে না, তারা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রফতানির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। ফলে তারা মূল্য কমিয়ে দিয়ে পোশাক রফতানির অর্ডার নিচ্ছে। আরও পড়ুন: ৬ মাসে তৈরি পোশাক রফতানি আয় কমলো ২.৬৩ শতাংশ তবে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি রফতানিকারকরা একই ধরনের পণ্যের অর্ডার নিতে পারছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফলে ইউরোপীয় বাজারেও রফতানি কমছে। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে-তারা কীভাবে পারছে? এর কারণ হলো, ভারত সরকার মার্কিন শুল্কজনিত ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সহায়তা দিচ্ছে। গত সপ্তাহেও তারা এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি, সম্প্রতি ভারত সরকার ৭ হাজার কোটি রুপির আরও একটি প্যাকেজ সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানান বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, তবে বাংলাদেশ সরকার আইএমএফ কর্মসূচি ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের যুক্তি দেখিয়ে রফতানি খাতের নগদ সহায়তাসহ নানা সুবিধাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যে সামান্য সহায়তা অবশিষ্ট ছিল, তার মেয়াদও ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। সেটি নবায়নের জন্য এরই মধ্যে সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা রফতানিকারকদের টিকে থাকতে সহায়তা করবে। অন্যথায় রফতানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ হাতেম জানান, দেশের অনেক স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা রফতানি খাতের জন্য অশনি সংকেত। এছাড়া সাধারণত যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের আগে রফতানি আদেশ কিছুটা কমে যায়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের পর সরকার যদি শিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আগামী জুনের পর থেকে রফতানি আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এদিকে, গত ৪ জানুয়ারি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রফতানি আয় এসেছে ২ হাজার ৩৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, যা বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৫৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। আরও পড়ুন: অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রফতানি আয় কমেছে ২.১৯ শতাংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তৈরি পোশাক রফতানি আয়ও কমেছে। পোশাক রফতানি ২.৬৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে মাসে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ের মধ্যে ১ হাজার ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে নিটওয়্যার রফতানি থেকে, যা বছর ব্যবধানে ৩ দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। এছাড়া ৮৮৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এসেছে ওভেন পোশাক রফতানি থেকে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে এ আয় ছিল ৯০৫ কোটি ৩ লাখ ডলার।