মাদারীপুরে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ, হাসপাতালে রোগীর চাপ দ্বিগুণ

মাদারীপুরে জেঁকে বসেছে শীত। এতে প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। এর বেশির ভাগই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা শিশু ও বৃদ্ধ।হাসপাতালের শয্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। এতে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। শীত মৌসুমে এই রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাকের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে মাদারীপুরে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গ্রামগঞ্জ থেকে আসা শিশু-বৃদ্ধসহ নানান বয়সের মানুষ ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত বইছে হিমেল বাতাস, তার সাথে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগ নিয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। সবচেয়ে বেশি চাপ বেড়েছে ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে। আসন সংকটে গাদাগাদি করে নিতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ঠান্ডাজনিত রোগের বাইরে কারও কারও দেখা দিয়েছে চর্মরোগও। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ। এমতাবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গড়ে প্রতিদিন শুধুমাত্র জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। ১৬৪ জন জনবলের বিপরীতে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সসহ ১৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে ২৯টি পদ। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা, মাদারীপুরে প্রাণ গেল এনজিও কর্মীর মাদারীপুর পৌরসভার কুকরাইল এলাকা থেকে আসা ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমার এক বছরের মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। প্রচন্ড ঠান্ডায় মেয়ে অসুস্থ হয়েছে। জ্বরের সাথে কাঁপুনি হচ্ছে। দুইদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি।’ সদর উপজেলার মোস্তফাপুর থেকে আসা রহিম শেখ বলেন, ‘আমার নাতি হাসপাতালে ভর্তি আজকে তিনদিন। আবহাওয়া অপরিবর্তিত থাকায় রোগবালাই কমছে না। নাতির চিকিৎসা নিতে এসে নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’ মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক গরম পোশাক পরতে হবে। শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। এছাড়া ঠান্ডাজনিত রোগের উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।’