ইরানের চলমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।স্থানীয় সময় রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে যা ঘটছে তা ‘খুব কাছ থেকে’ পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগের মতো যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্টের পক্ষ থেকে দেশটিতে শক্তিশালী আঘাত আসবে বলে আমি মনে করি।’ ইরানে চলমান বিক্ষোভে ট্রাম্পের এটি দ্বিতীয় হুমকি। এর আগে ১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন,‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের যদি ইরান গুলি করে ও সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত, যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।’ আরও পড়ুন: ইরানে সপ্তাহজুড়ে বিক্ষোভে অন্তত ১৬ জন নিহত, জানিয়েছে অধিকার গোষ্ঠীগুলো গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তেহরানের খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। এর পরপরই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু করেন নাগরিকরা। গতকাল রোববার টানা অষ্টম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ইরান ইন্টারন্যাশনাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ২৬ টি প্রদেশের ৭৮ শহরের ২২টি স্থানে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। আরও পড়ুন: ইরানজুড়ে বিক্ষোভ / প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক নয়, আলোচনা অর্থহীন: খামেনি এদিকে ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভকে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট উসকানিদাতাদের কাজ’ বলে আখ্যা দিয়ে আরও ‘কঠোর দমন-পীড়নের’ আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেছেন, ‘কিছু উত্তেজিত লোক ও ভাড়াটে শত্রু ইসলাম ও ইরানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। প্রতিবাদ বৈধ, কিন্তু প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক নয়। কর্মকর্তাদের উচিত প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলা। তবে দাঙ্গাবাজদের সঙ্গে কথা বলা অর্থহীন।’