স্বজন থাকার পরও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় রায়েরবাজার সংলগ্ন কবরস্থানে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা, চান হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে জুলাই শহীদদের গণকবর থেকে তোলা ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সকালে গণকবরের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের কাছে কবরগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, অজ্ঞাতনামা বাকিদের পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে। শহীদ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। এ কান্না যেন স্বজন হারানোর নয়, এ কান্না হারানো স্বজনের কবর খুঁজে পাওয়ার। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিখোঁজ হওয়ার দেড় বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সন্ধান মেলেনি তাদের। অবশেষে দেখা মিলল সেই আদরের সন্তানের কবর। কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন সোহেল রানা। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হন। তার মমতাময়ী মা কবরের পাশে বার বার মূর্ছা যান। একটাই আকুতি শেষবার যদি ছেলেকে জড়িয়ে ধরতে পারতেন! পাশের কবরেই শায়িত শহীদ ফয়সাল সরকার। তার মা এখনও মেনেই নিতে পারছেন না তার কলিজার টুকরা এই পৃথিবী ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন অনন্তকালের যাত্রায়। ছেলেকে বাঁচাতে না পাড়ার বেদনায় নিজেও যেতে চাচ্ছেন ছেলের কবরে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ তারা। শহীদ পারভেজ বেপারীর মায়ের আর্তনাদ যেন থামছেই না। মাত্র ২৩ বছরেই সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন মেনে নিতেই পারছেন না মা শামসুন্নাহার। তবে এত কষ্টের পরও ছেলের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে তিনি। শুধু এ তিনজনের না, পরিচয় শনাক্ত হয়েছে শহীদ রফিকুল ইসলালের। পেশায় শিক্ষক ছিলেন, যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনে গিয়ে মারা যান। পেশায় গাড়িচালক শহীদ মাহিম নিহত হন মোহাম্মদপুরে। আসাদুল্লাহ ২২ জুলাই শহীদ হন উত্তরায়। ব্যবসায়ী কাবিল হোসেন শহীদ হন মাদারটেকে। টাইলস মিস্ত্রী রফিকুল ইসলাম ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে শহীদ হন। স্বজন থাকার পরও এদের সবাইকেই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় রায়েরবাজারে। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পরিবারের। সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় শনাক্ত তথ্য তুলে ধরেন সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ। আন্তর্জাতিক প্রোটকল মেনে বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞসহ সিআইডির বিশেষায়িত দল ২১ দিন ধরে ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন করে। এরপর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পুনরায় দাফনও করা হয়। পরে ভুক্তভোগী ৯ পরিবারের ডিএনএর সাথে মিলিয়ে ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয় বলে জানান সিআইডি মো. ছিবগাত উল্লাহ । তিনি আরও বলেন, অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম গত ৭ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।