আসন সমঝোতা ও জোটে নতুন দল যুক্ত করা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের টানাপোড়েন এখন শেষের পথে। দূরত্ব ঘুচিয়ে ১১ দলীয় জোটের বৃহত্তর স্বার্থে একে অপরকে ছাড় দেয়ার কথা বলছেন দল দুটির নেতারা। তারা জানান, জোটের পক্ষ থেকে শিগগিরই তিনশ আসনেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে এই জোট ভালো ফল করবে বলেও আশাবাদী দল দুটির শীর্ষ নেতারা।কদিন আগেই জামায়াত ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের টিকে থাকা নিয়ে সংশয় জানান ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্ব।নির্বাচন সামনে রেখে ৮ থেকে ১০, তারপর ১১ দলীয় জোট গঠন হলেও ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেয়া এখনও সম্ভব হয়নি। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনেও বেশিরভাগ আসনেই ফরম জমা দেন জোটভুক্ত দলের একাধিক প্রার্থী। এর পরিপ্রেক্ষিতেই টানাপোড়েনের শুরু। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে অভিযোগের তির ছোড়ে ইসলামী আন্দোলন।তবে সাম্প্রতিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের। শিগগিরই জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে জানান দল দুটির নীতিনির্ধারকরা।ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করীম বলেন, ‘জনগণও চায়, রাজনৈতিক দলগুলোও চায়। যেহেতু জনগণের আগ্রহ আছে, ইনশাল্লাহ জোট ভাঙবে না। খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।’জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘সর্বোচ্চ আসনে আমরা বিজয়ী হতে চাই। ফলে সংখ্যার চেয়ে আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় হলো, এমনভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা, যাতে জোট থেকে যিনি নির্বাচন করেন না কেনো, তিনি যাতে জয়লাভ করতে পারেন।’আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতা, যা জানাল ৮ দলীয় জোটসাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে উভয় দলকেই ছাড় দেয়ার মানসিকতা রাখতে হবে বলেও জানান নেতারা।ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করীম বলেন, ‘যে কথাগুলো আগে হয়ে গেছে, সেগুলো মনে রাখতে চাই না। এবং সে কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি না হোক। যে আচরণগুলোর জন্য ঐক্য নষ্ট হয়, সে আচরণগুলো যেন আমার থেকে না হয়, এবং অন্য কারোর থেকেও না হয়।’জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘যে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি, সে লক্ষ্য থেকে আমরা বিচ্যুত হবো না ইনশাল্লাহ। এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে, সবার পক্ষ থেকে ছাড় দিয়ে হলেও ঐক্যটাকে ধরে রাখা। আসন সমঝোতা যাতে সবাই মেনে নিতে পারে সে ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘বড় ভাই সুলভ আচরণ কেউ করছে না। সবাই পরস্পরের প্রতি সম্মান রেখেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।’ঐক্যবদ্ধ থাকলে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনে ভালো ফলাফল করার ব্যাপারেও আশাবাদী নেতারা।