ঝিনাইদহে আদালতে হাজিরা দিয়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে মতিয়ার রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মহেশপুরের ভাষাণপোতা গ্রামের হলদিয়া মাঠ এলাকায় বাঘাডাঙ্গা-মহেশপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইব্রাহিম হোসেন ইব্রা নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গুলিতে আহত মতিয়ার রহমান (মতি) বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। সীমান্তের চোরাচালান নাকি পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক ইব্রাহিম হোসেন ইব্রা মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের টেনা হালসানার ছেলে। তিনি চোরাচালানসহ একাধিক মামলার আসামি। গুলিবিদ্ধ মতিয়ার রহমানের ছেলে হিছাব আলী জানান, তার বাবা ঝিনাইদহের একটি আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে সঙ্গী মোখলেসুর রহমানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। মহেশপুরের ভৈরবা বাজারে মকলেছুর রহমানকে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ভাষানপোতা হলদিয়া মাঠে সড়কে চলন্ত অবস্থায় দুই দুর্বৃত্ত পেছন থেকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় ও আহতের স্বজনরা জানান, প্রায় ৬ মাস আগেও মতিয়ার রহমানকে তার বাড়ির সামনে থেকে গুলি করেছিল দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, তারাই আবারও মতিয়ার রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে। মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বিকেলে উপজেলার সীমান্তবর্তী ভাষানপোতা গ্রামের হলদিয়া মাঠে সড়কের পাশে মতিয়ার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। ওই সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে মতিয়ার রহমানকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরি বিভাগে কর্মরত মেডিকেল অফিসার আল মামুন জানান, তার ডান হাতের পাশে পিঠে একটি গুলি লেগেছে। গুলি বেরিয়ে যাওয়ার তেমন সিমটম পেলাম না। হয়ত শরীরের ভেতরে গুলি থেকেও যেতে পারে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কোটচাঁদপুর সার্কেল) মো. সায়েম ইউসুফ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার মহোদয় পৌঁছেছেন। পুরো এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়েছে। ইব্রাহিম হোসেন ইব্রা নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত পক্ষে কী কারণ আছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে এ বিষয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাবেন। এম শাহজাহান/এমএন/এএসএম