যুক্তরাষ্ট্রে অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি পরিবার সরকারি সহায়তা নেয়, জানালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর অর্ধেকেরও বেশি বিভিন্ন খাতে দেশটির সরকারের সহায়তা গ্রহণ করে- এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ১২০টি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেন তিনি। তালিকাটিতে দেখানো হয়েছে, কোন কোন দেশের অভিবাসী পরিবারগুলোর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কত শতাংশ সহায়তা নেয়। প্রকাশিত তালিকায় ২৫ শতাংশের নিচে সরকারি সহায়তা গ্রহণকারী কোনো দেশের নাম নেই। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শুধু যেসব দেশের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ বা তার বেশি সরকারি সহায়তা নেয়, সেসব দেশের তথ্যই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় ১৯তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। ট্রাম্পের প্রকাশ করা তথ্যে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার মার্কিন সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা গ্রহণ করে। অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে এই তালিকা প্রকাশ করলেন, যখন তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিভিন্ন খাতে অনুদান কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং একই সঙ্গে অভিবাসীদের জন্য দেশটিতে বসবাস আরও কঠিন করে তুলতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, চীন, মিয়ানমার ও ভুটানের নাম রয়েছে। তবে এতে ভারতের নাম নেই। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এর পেছনে কারণ হলো—ভারতীয় অভিবাসীরা তুলনামূলকভাবে খুব কম সরকারি সহায়তা নেয়। এমনকি ভারতীয়-আমেরিকান পরিবারগুলোর বার্ষিক আয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম আয়ের সীমার চেয়েও বেশি। ফলে চিকিৎসা বা খাদ্যসহায়তার মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজন তাদের খুব কমই পড়ে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। ১২০টি দেশের এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এশিয়ারই একটি দেশ ভুটান। তালিকা অনুযায়ী, ভুটান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়া পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৪ শতাংশই মার্কিন সরকারের সহায়তা নেয়। এরপর রয়েছে ইয়েমেন, যেখানে এই হার ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ ও সোমালিয়া, যেখানে ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে আফগানিস্তান তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে। ইরাক আছে ১১তম অবস্থানে, দেশটির অভিবাসী পরিবারগুলোর ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ সহায়তা নেয়। মিয়ানমার রয়েছে ১৩তম অবস্থানে, যেখানে এই হার ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। এরপরই অবস্থান বাংলাদেশের। তালিকায় পাকিস্তানি অভিবাসী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার দেখানো হয়েছে ৪০ দশমিক ২ শতাংশ এবং চীনা অভিবাসী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই হার ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। সূত্র: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট এসএএইচ