আগের দুই ম্যাচেই রংপুর রাইডার্সকে বাঁচিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এবার আরও একটি ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন তিনি। রংপুরের জয়ের পথটা অবশ্য আগেই সহজ করে দিয়েছিলেন কাইল মেয়ার্স। এরপর শেষদিকে ১৯ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় রংপুর।সোমবার (৫ জানুয়ারি) টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরুর আভাস দিলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নাঈম শেখ। দলীয় ২২ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এরপর রানের চাকা সচল রাখেন অ্যাডাম রসিংটন। তার ৫৮ ও হাসান নাওয়াজের ৪৬ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান করে চট্টগ্রাম রয়্যালস। জবাব দিতে নেমে রংপুরের শুরুটাও খুব একটা ভালো হয়নি। স্কোরবোর্ডে ১৯ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার লিটন দাস। ফেরার আগে ১ বাউন্ডারিতে ৮ বলে ১০ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার। এরপর কাইল মায়ার্সের সঙ্গে জুটি বাঁধেন দাউইদ মালান। দুজনে মিলে মাত্র ২৭ বলেই যোগ করেন ৬১ রান। আমের জামালের বলে মেহেদী হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে মেয়ার্স ফিরলে ভাঙে এই জুটি। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ৫০ রান। আরও পড়ুন: হারের পর হার, এরপর আবার হার—এই হলো বিপিএলে নোয়াখালীর গল্প তাওহীদ হৃদয় ফিরেছেন ১৫ বলে ১৭ রান করে। তার পরের ওভারেই সাজঘরে ফেরেন মালান। শরিফুলের বলে আসিফ আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৩০ বলে ৩০ রান করেন এই ব্যাটার। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ। জয়ের জন্য যখন মাত্র ৬ রান দূরে দল, তখন শরিফুলকে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে আমের জামালের হাতে ধরা পড়েন খুশদিল। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে রান। এরপর নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে বাকি জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এর ফলে টানা তিন ম্যাচেই জয় পেলো রংপুর। চট্টগ্রামের হয়ে শরিফুল ইসলাম নিয়েছেন ৩ উইকেট। আবু হায়দার রনি ও আমের জামাল নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার নাঈম শেখ এবং অ্যাডাম রসিংটনের ব্যাটে ভর করে এগিয়েছে চট্টগ্রামের ইনিংস। ওপেনিং জুটিতে চট্টগ্রাম তুলেছে ২২ রান। ১৫ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান নাঈম। আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা নাসুম, প্রথম কে? এক প্রান্ত আগলে রেখে টিকে ছিলেন রসিংটন। তিনে নামা মাহমুদুল হাসান জয় ৭ বলে ১২ রান করে বিদায় নেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রান তোলে চট্টগ্রাম। এরপর জুটি বাঁধেন হাসান নওয়াজ এবং অ্যাডাম রসিংটন। দুজনের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে চট্টগ্রামের ইনিংস। যদিও ফিফটির পরেই থেমেছেন রসিংটন। দলীয় ১৩০ রানের মাথায় ৪১ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নিয়েছেন রসিংটন। এরপর দ্রুত আরও ২ উইকেট হারিয়েছে চট্টগ্রাম। ৩৮ বলে ৪৬ রান করে বিদায় নেন নাওয়াজ। ২ বলে ১ রান করে বিদায় নিয়েছেন আসিফ আলী। শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসান এবং আমের জামালের ব্যাটে ভর করে দেড়শ পার করে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ৭ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন মেহেদী। আরেক প্রান্তে ১০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন আমের জামাল। রংপুরের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও আকিফ জাভেদ। ১ উইকেট শিকার করেছেন রাকিবুল হাসান।