মানিকগঞ্জে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন এ নোটিশ পাঠান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মানিকগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা, মানিকগঞ্জের এসপিকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদীয় আসন-১৭০ মানিকগঞ্জ-৩ এর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে হেনস্তাপূর্বক রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস থেকে অবৈধভাবে বের করে দেয়া হয়। এ ঘটনা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থক কর্তৃক রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে সংঘটিত হয়। আরও পড়ুন: রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিএনপি নেতাকর্মীদের হেনস্তাঘটনাটি স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন এবং একই সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধ উল্লেখ করে নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে অবগত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। একজন আইনজীবী ও মানিকগঞ্জের একজন সচেতন ভোটার হিসেবে উল্লিখিত বিষয়টি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন ও সংক্ষুব্ধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে শঙ্কিত। নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনা তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আতাউর রহমান আতাকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর অনুসারী ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা যাচাই-বাছাই শেষে আতাউর রহমান আতার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সময়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খান রিতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। আরও পড়ুন: প্রশাসনের আচরণ একপাক্ষিক হলে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই: হাসনাত আব্দুল্লাহআতাউর রহমান আতা তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং আফরোজা খান রিতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও মামলার প্রমাণপত্র উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে থামিয়ে দেন বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্মেলন কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় আতাউর রহমান তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের একটি নম্বর চাইলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন যাদু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট লিটন এবং শিবালয় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানাসহ বেশ কয়েকজন তাকে ধাক্কা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।ঘটনার বিষয়ে আতাউর রহমান আতা গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমি ন্যায়বিচারের জন্য তথ্য প্রমাণ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। উল্টো সম্মেলন কক্ষের বাইরে পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। আমি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছি এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।'