রাতারাতি ভেনিজুয়েলায় দখলদারি কায়েম করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্দি করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে। আমেরিকার মাটিতেই তাঁদের বিচার হবে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।এ নিয়ে যখন সমালোচনায় সরব আন্তর্জাতিক মহল, তখন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দিকেই তিনি ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভেনিজুয়েলা আক্রমণ করে মার্কিন বাহিনী। রাজধানী কারাকাস ছাড়াও কয়েক জায়গায় যুদ্ধবিমান থেকে বোমাও বর্ষণ করে। এরপর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের বাসভবন থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে তারা। প্রথমে হেলিকপ্টার এরপর জাহাহে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় নিউইয়র্কে। সেখানে তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনিজুয়েলা আমেরিকাই চালাবে। সেখানকার তেলভাণ্ডারের ওপরও নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণা করেছেন তিনি। একটা স্বাধীন ও সার্বভৈৗম দেশে বিনা উসকানিতে হামলা এবং সেই দেশের নির্বাচিত নেতাকে অপহরণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। আরও পড়ুন: মাদুরোর মতো জার্মান চ্যান্সেলরকেও অপহরণ করা হতে পারে: মেদভেদভ ভেনিজুয়েলা ও মাদুরের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে গত রোববার কিয়েভে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আর কী বলতে পারি? স্বৈরাচারীদের বিরুদ্ধে যদি এমন পদক্ষেপ নেয়া যায়, সেক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, তা ভালো করেই জানে আমেরিকা।’ জেলেনস্কি যদিও কারও নাম মুখে আনেননি। তবে পুতিনের দিকেই যে তার ইঙ্গিত সেটাই মনে করেছেন অনেকেই। তাহলে কি মাদুরোর মতো পুতিনকেও বন্দি করার কথা বলতে চাইছেন জেলেনস্কি, উঠছে এমন প্রশ্নও। প্রায় চার বছর ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। আমেরিকা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। বরং যত দিন যাচ্ছে টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে। তবে জেলেনস্কি চাইলেই আমেরিকা পুতিনকে বন্দি করতে নেমে পড়বে, এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। কারণ আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে বরাবর সংঘাত থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে পুতিনের সঙ্গে আগাগোড়াই সুসম্পর্ক ট্রাম্পের। জেলেনস্কির ওপর মেজাজ হারালেও পুতিনকে নিয়ে বরাবরই আন্তরিক থেকেছেন তিনি। আরও পড়ুন: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি / গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ করলে ন্যাটোর সমাপ্তি হবে তবে শনিবার আমেরিকা ভেনিজুয়েলায় যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে কথা বলেছে রাশিয়াও। অবিলম্বে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ক্রেমলিন। কোনো নির্বাচিত রাষ্ট্রনেতাকে এভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেছে তারা। অবশ্য রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে এখনও কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন। তবে দেশের অন্দরেও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ট্রাম্প সরকারকে। তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ