পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিখোঁজের দুদিন পর পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী আয়েশা আক্তারের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাবুল প্যাদা ও চাচা রুবেল প্যাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহ ও বাবার অনৈতিক সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যাওয়াকে এই হত্যার পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দোলন হাসান আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদাকে দুই দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন। এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে চাচা রুবেল আয়েশাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।জানা গেছে, বাবা বাবুল প্যাদার সঙ্গে আয়েশার প্রায় সমবয়সী আরেক তরুণীর অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি আয়েশা জানতে পেরে বড় বোন ও প্রবাসে থাকা মাকে জানায়। এতে বাড়িতে বিরোধ দেখা দেয়। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়বে, এই আশঙ্কায় বাবুল প্যাদা ‘সম্মান রক্ষার’ যুক্তিতে মেয়েকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন এবং ছোট ভাই (চাচাতো) রুবেল প্যাদাকে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেন।পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে আয়েশাকে ঘরে ডেকে নিয়ে গলাটিপে হত্যা করা হয়, এমন তথ্য পায় পুলিশ। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে রান্নাঘরের বারান্দায় রাখা হয়। এর মধ্যেই আয়েশা নিখোঁজ বলে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ সত্যতা উদ্ঘাটন করে শনিবার মরদেহ উদ্ধার করে।আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৪রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে রুবেল প্যাদা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টিও জানান রুবেল। হত্যাকাণ্ডে বাবার ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাবুল প্যাদার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।