পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্রেতারা কিনতে এসে গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জেলা শহরের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, দোকানিরা দোকান খুলে বসে থাকলেও দোকানে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার নেই। যেগুলো আছে সব খালি। রনেল চাকমা নামের একজন জাগো নিউজকে বলেন, ‘খবরে দেখেছি বাজারে নাকি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই অগ্রিম বাসার জন্য একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে এসে দেখলাম নেই।’ সুনজুক হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক সুশীল বিকাশ চাকমা বলেন, ‘দোকানগুলোতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের হোটেলে রান্নার গ্যাস কমে যাচ্ছে। যা আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুদিন রান্না করা যাবে। গ্যাস ফুরালে রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে হবে।’ শহরের হ্যাপির মোড় এলাকার মেসার্স খাজা ট্রেডার্সের কর্মচারী মো. সোহেল জাগো নিউজকে জানান, প্রায় চার দিন ধরে গ্যাসের গাড়ি আসছে না। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে। দোকানে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার নেই। যেগুলো আছে সব খালি। গ্যাসের ডিলারকে ফোন দিলেও ফোন ধরেন না। শহরের তবলছড়ি এলাকার মা এন্টারপ্রাইজ নামের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা উত্তম দে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত আমরা বিক্রি করতে পেরেছি। আজ একেবারে গ্যাস নেই। টোটাল, আই গ্যাস ও ওমেরা গ্যাস আমরা ডিলার থেকে ১৪৫০ টাকায় কিনে ১৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি।’ এ বিষয়ে জানতে জেলায় একাধিক এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের ডিলার মেসার্স জসিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর এসএম মান্না বলেন, ‘বাজারে গ্যাস সংকটের বিষয়টি জানতে পেরেছি। কাল (বুধবার) থেকে আমাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কারও বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আরমান খান/এসআর/এমএস