ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। এ মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে আটজনের বিষয়ে পুনরায় তদন্ত করা হয়। এর মধ্যে সাতজনকে অভিযুক্ত করার প্রস্তাব থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আগের তদন্তে অভিযুক্ত ২১ জনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে গত ১৭ ডিসেম্বর সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। এর আগে গত বছরের ১ জানুয়ারি শাহবাগ থানার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান ২১ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে কয়েকজন আসামির জবানবন্দিতে উঠে আসা আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় বাদী পক্ষ নারাজি আবেদন করে। পরে আদালত সেই নারাজির শুনানি নিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সম্পূরক অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্ররা। তাদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের জালাল মিয়া, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সুমন মিয়া, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মোত্তাকিন সাকিন শাহ, ভূগোল বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদসহ মোট ২৮ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মাঠে বসার ৫৭ সেকেন্ডের মধ্যেই হামলা সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সময় রেখা তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট ১০ সেকেন্ডে তোফাজ্জল হোসেন হলের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রায় তিন মিনিট পর তিনি হলের খেলার মাঠে যান। মাঠে খেলা পরিচালনার মঞ্চের পাশে বসার মাত্র ৫৭ সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তোফাজ্জলকে হলের মূল ভবনের দিকে নিয়ে যান। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে জেরা ও মারধরের একপর্যায়ে কয়েকজন বুঝতে পারেন, মোবাইল চুরির ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এরপর তাকে হলের ক্যানটিনে নিয়ে খাওয়ানো হয়। তবে ক্যানটিন থেকে ফেরার পর আবারও তার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার সময় শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শুরুতে সফল হননি। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় তোফাজ্জলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। নিহত তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে। পরে নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করেন। আদালত উভয় মামলার তদন্ত একসঙ্গে পরিচালনার নির্দেশ দেন। এমডিএএ/এমআইএইচএস/এমএস