চেক জালিয়াতি মামলায় ইভ্যালির রাসেলের কারাদণ্ড, চেয়ারম্যান শামীমা খালাস

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ ও চেক জালিয়াতির মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এই মামলার অপর আসামি ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।বুধবার (৭ ডিসেম্বর) আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।প্রতিষ্ঠানটি এক সময় দেশে ই-কমার্স বিপ্লব ঘটানোর দাবি করলেও বর্তমানে তা অসংখ্য মামলা ও আইনি মারপ্যাঁচে জর্জরিত। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে র‍্যাবের অভিযানে এই দম্পতি প্রথমবার গ্রেফতার হওয়ার পর ইভ্যালির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর তারা জামিনে মুক্তি পান এবং ইভ্যালি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।রাসেল ও শামীমা দাবি করেছিলেন যে, নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মাধ্যমেই তারা পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের পুরনো দেনা পরিশোধ করবেন। সেই উদ্দেশ্যে তারা 'ইভ্যালি ২.০' নামে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করলেও বিভিন্ন মামলায় সাজার রায় ঘোষণা হতে থাকায় তারা আবার গা ঢাকা দিয়েছেন।শুধু এই মামলাই নয় বরং দেশের বিভিন্ন আদালতে এই দম্পতির বিরুদ্ধে শত শত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় ইতোমধ্যেই তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা এক মামলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২২ সালের এপ্রিলে জামিনে মুক্তি পান শামীমা। গত ১৯ ডিসেম্বর রাসেলও জামিনে মুক্তি পান। পরে গত বছরের জুনে একটি মামলায় তারা দণ্ডিত হন।চট্টগ্রামে এক মামলায় ২০২৪ সালের ২ জুন তাদের সাজা হয়। এরপর দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ান জারি করা হয়। ওই সময় থেকে প্রায় দেড় বছর ধরে দুজন ফেরারি। আদালত ও মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পৃথক ছয় মামলায় মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিনের ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দুই লাখ সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।আরও পড়ুন: গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা, ইভ্যালির রাসেল-শামীমার ৩ বছরের কারাদণ্ডগত বছরের ১২ নভেম্বর গ্রাহকের করা মামলায় মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আরেক মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। একই সঙ্গে তাদের পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।এছাড়াও গত বছর ১৩ এপ্রিল রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। তাদের পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়। এর ৭ দিন আগে ৬ এপ্রিল রাসেল দম্পতিকে তিন বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার আদালত। একই সঙ্গে তাদের পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।এছাড়াও গত বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রতারণার মামলায় তাদের দুই বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া গত বছরের ২ জুন চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই সঙ্গে চেকের সমপরিমাণ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।