মৌলভীবাজারে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলাজুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর কনকনে হিমেল বাতাসে থমকে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে চা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ গতকাল মঙ্গলবার এই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।তিনি আরও জানান, বর্তমানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ৯ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। এই দুই তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ৭ দিন আবহাওয়া এমন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন হাইল হাওর ও চা বাগান এলাকার শ্রমজীবী মানুষ। বর্তমানে বোরো চাষের ভরা মৌসুম চললেও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় চাষিরা মাঠে নামতে হিমশিম খাচ্ছেন। পাহাড় ও টিলা বেষ্টিত চা বাগানগুলোতে শীতবস্ত্রের অভাবে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন চা শ্রমিকেরা। বুধবার সকাল থেকে সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডা বাতাস ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।আরও পড়ুন: ঢাকায় সূর্যের দেখা মিললেও বাড়ছে শীতের প্রকোপজেলা ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, এরমধ্যেই জেলায় ৪২ লাখ টাকার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি উজেলায় ৬ লাখ কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার কাযালয় থেকে ৫ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া যায়। এগুলো এরইমধ্যে শীতার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা আরও জানান, সম্প্রতি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, এ আবহাওয়া আরও অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন অব্যাহত থাকবে।