রাশিয়ার ‘অ্যাকশন’, যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা তেল ট্যাংকার পাহারায় পাঠাচ্ছে যুদ্ধজাহাজ!

আটলান্টিক মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর তৎপরতার মুখে ওই ট্যাংকারকে পাহারা দিতে নৌ-জাহাজ মোতায়েন করেছে রাশিয়া।সিবিএস-এর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে কোনো কিছু বহন না করলেও অতীতে এটি ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিবহন করত। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে জাহাজটিকে স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে যেসব তেলবাহী জাহাজ দেশটিতে প্রবেশ ও ত্যাগ করছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে সেগুলোর বিরুদ্ধে ‘নৌ অবরোধ’ জারির নির্দেশ দেন। ভেনেজুয়েলা সরকার এই পদক্ষেপকে ‘চুরি’ বলে আখ্যা দেয়। গেল শনিবার ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার ঘটনার আগেই ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করছিলেন যে, ভেনেজুয়েলার সরকার জাহাজ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করছে। এর আগে গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন কোস্ট গার্ড ‘বেলা ১’ নামের ওই জাহাজে তল্লাশির চেষ্টা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানি তেল পরিবহন করেছে। তবে তল্লাশির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জাহাজটি আকস্মিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে এবং নাম বদলে ‘মারিনেরা’ রাখে। একই সঙ্গে এটি গায়ানা থেকে রাশিয়ার পতাকায় পুনঃনিবন্ধিত হয় বলে জানা গেছে।  আরও পড়ুন: মাদুরোকে আটকের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা রাশিয়ার ইউরোপের দিকে জাহাজটির যাত্রার সময় প্রায় ১০টি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান ও কয়েকটি হেলিকপ্টার ওই অঞ্চলে পৌঁছায়, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা জাহাজটিকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি ‘উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করছে। সিবিএস নিউজকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দু’জন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জাহাজটি আটক করে দখলে নেয়ার পরিকল্পনা করছে এবং সেটি ডুবিয়ে দেয়ার পরিবর্তে জব্দ করতেই তারা আগ্রহী। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে তারা প্রস্তুত। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’ তবে খারাপ আবহাওয়া ও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় জাহাজটিতে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে কোনো মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে দেশটিকে অবহিত করতে হবে ওয়াশিংটনকে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের একটি অভিযানে ভেনেজুয়েলা বন্দর ছাড়ার পর ‘দ্য স্কিপার’ নামের একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করেছিল, যেখানে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে মার্কিন মেরিন ও বিশেষ বাহিনী অংশ নেয়। সূত্র: বিবিসি