‘স্যার, একটু দেখা করতে পারি?’ ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন মোদি!

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন - দু’টি বিষয়কেই একসঙ্গে টেনে নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে নতুন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, বহুদিন ঝুলে থাকা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহ ও শুল্ক ইস্যুতে স্বয়ং মোদি তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।হাউস রিপাবলিকান সদস্যদের রিট্রিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত পাঁচ বছর ধরে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল, কিন্তু পায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার কাছে এলেন। বললেন - স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?’ যদিও ট্রাম্পের দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, শুল্ক নীতিকে ঘিরে মোদি তার ওপর বিশেষ খুশি নন। তার কথায়, ‘তিনি (মোদি) খুব খুশি নয়, কারণ এখন তাদের অনেক শুল্ক দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে তেল কেনার কারণে।’ যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।  আরও পড়ুন: ‘ট্রাম্প কি মোদিকেও অপহরণ করবেন?’, যা বললেন কংগ্রেস নেতা শুল্ক নীতির ‘সাফল্য’ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তার বক্তব্য, আমরা শুল্কের মাধ্যমে ধনী হয়ে উঠছি। শিগগিরই ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে আসছে, শুধুই ট্যারিফের কারণে। প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রসঙ্গেও ফের অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের বিলম্বিত সরবরাহ নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানান, ভারত মোট ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল এবং সেই বিষয়টি এখন আলোচনার পর্বে রয়েছে। যদিও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। এর আগেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছিলেন, প্রয়োজনে ভারতের ওপর আরও শুল্ক চাপানো হতে পারে। তার মন্তব্য ছিল, ‘রাশিয়ার তেল ইস্যুতে যদি ভারত সাহায্য না করে, তাহলে আমরা শুল্ক বাড়াতে পারি।’ একইসঙ্গে তিনি মোদিকে নিয়ে সুর নরমও রাখেন। বলেন, ‘মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করাটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা খুব দ্রুতই শুল্ক বাড়াতে পারি।’ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক সরাসরি যুক্ত ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার সঙ্গে। ওয়াশিংটনের দাবি, মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বন্ধ করতে দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি করাই এই নীতির উদ্দেশ্য। সূত্র: দ্য ওয়াল