দাওয়াত হোক কৌশল ও সদুপদেশের মাধ্যমে

দাওয়াত তথা মানুষদেরকে আল্লাহর পথে ডাকা ও আহবান করা অত্যধিক পুণ্যের কাজ। হাদিসে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (মানুষদেরকে) কোনো কল্যাণের পথ দেখায়, তার জন্যও ততটুকু কল্যাণ হবে, (পুণ্য পাওয়া যাবে) যতটুকু কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি নিজে করবে। (সহি মুসলিম)ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো কাজ বা প্রথার প্রচলন করে, সে তার বিনিময় লাভ করবে।  এরপর যারা এই প্রচলন, পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করবে, তাদেরকেও সে পরিমাণ বিনিময় দেওয়া হবে। (আর পরবর্তীতে আমলকারীদেরকে) যে বিনিময় দেওয়া হবে, তা থেকেও (পূর্ববর্তীদের চেয়ে) কম করা হবে না। যে ব্যক্তি কাউকে হেদায়েতের দিকে আহবান করবে, তার অনুসরণকারী ব্যক্তির সমপরিমাণ নেকি তাকে দেওয়া হবে। তবে এ কারণে অনুসারীদের নেকি থেকে বিন্দু পরিমাণও কম করা হবে না। (সহি মুসলিম) আরও পড়ুন: কম্বল-তোশক নাপাক হলে পবিত্র করার উপায় মানুষদেরকে কল্যাণের পথে ডাকা, ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করাও পুণ্যের কাজ। এমনকি এর বিনিময় বা পুণ্যও কারও থেকে কম করা হবে না। এটাই ইসলামের শিক্ষা। যা আমরা আমাদের নবীজির এবহাদিস থেকে জানতে পারলাম। আর নিঃসন্দেহে এ জাতীয় কাজ সাদকায়ে জারিয়া। যার বিনিময় দীর্ঘদিন আমলকারীদের মাধ্যমে দাওয়াত প্রদানকারীর আমলনামায়ও জমা হতে থাকবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রতি আহবান করুন কৌশল ও সদুপদেশের মাধ্যমে। (সুরা নাহল: ১২৫)বিভিন্ন কৌশল ও মাধ্যম অবলম্বন করে, সদুপদেশ প্রদানের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে উল্লিখিত আয়াতে। এজন্য মানুষদেরকে কল্যাণের আহবান করতে আমরা একাধিক পন্থা অনুসরণ করতে পারি। আশা করা যায়, প্রতিদানরূপ কোনোটাই কম হবে না।  সরাসরি কথা বলে, দেখা সাক্ষাৎ করে কোনো মানুষকে ইসলামের প্রাথমিক বিষয়ে দাওয়াত দেওয়া। যেমন কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করুন। যেভাবে আমাদের এই উপমহাদেশে দাওয়াত ও তাবলীগের নামে এখনও মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পীর মাশায়েখগণ তাদের খানকায় আলোচনা করে মানুষের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত বিস্তার করছেন। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলেও ইসলামের শিক্ষা, আদর্শ ও শিষ্টাচার তুলে ধরা হচ্ছে। এগুলোও সরাসরি ইসলামের দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে। চিঠি পত্র বা বর্তমান সময়ে ইমেইল করেও মানুষের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া যায়। প্রচার করা যায়, ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ। একইভাবে দৈনিক পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমেও ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া যায় মানুষের হাতে হাতে। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে ইসলাম বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকেও নিয়মিত ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া যায় গোটা বিশ্বের মাঝে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও হতে পারে দাওয়াতের মাধ্যম। এগুলোর প্রত্যেকটিই এক একটি দাওয়াতের অন্যতম মাধ্যম। এসবকে মাধ্যম বা পদ্ধতি হিসাবে গ্রহণ করে, বিষয়ভিত্তিক আলোচনাও হতে পারে দাওয়াতের অন্যতম একটি হিকমাহ তথা কৌশল। একইভাবে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর নির্দিষ্ট আলোচনাই হতে পারে উম্মাহর জন্য কল্যাণ বা সর্বোচ্চ সদুপদেশ কামনা করা। আর এভাবে সকলেই অনেক বেশি উপকৃত হতে পারেন। যেমনটি নবীজির হাদিসে এসেছে, হজরত তামিম দারী রা. বর্ণনা করেন, দীন তথা ইসলাম হচ্ছে কল্যাণ কামনার নাম। (সহি মুসলিম) এজন্য দীনের সম্মানীত দাঈ, আলেম খতিব ও বক্তা আলোচকদেরও কর্তব্য হলো যে, তাঁরা নির্দিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনা উপস্থাপন করবেন। এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। যেমন নির্ধারিত টপিকের ওপর নিয়মিত পড়াশোনা করা। মাসআলা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলে, সংশ্লিষ্ট কিতাব দেখে নেওয়া।  আরও পড়ুন: গরম পানিতে অজু, সওয়াব কি কমে যায়? বিজ্ঞ ও শাস্ত্রজ্ঞ কোনো আলেমের শরণাপন্ন হয়ে বিষয়টি সমাধান করে; প্রথমে নিজে হৃদয়ঙ্গম করে নেওয়া। যথাসম্ভব, বিতর্কিত ও ফিকহি আলোচনা এড়িয়ে চলা। এরপর আলোচনা, উপস্থাপনা ও নিজস্ব বর্ণনাভঙ্গির (যদি থাকে বিশেষ সুর ও নির্দেশনার) মাধ্যমে জনতার সামনে, সহজ ও সাবলীল করে পেশ করবেন। এভাবে মাহফিলের আয়োজনও হতে পারে কৌশল ও সদুপদেশের জন্য কার্যকরী একটি মাধ্যম। আর আলোচনাও হবে প্রাণবন্ত, আয়োজক কমিটি ও শ্রোতাদের জন্যও হবে কাঙ্খিত। উপস্থিত শ্রোতা, মুসল্লিগণ পাবেন তাদের প্রত্যেকের কাঙ্খিত দীনের খোরাক। প্রকৃতপক্ষে এমন মাহফিলও হতে পারে, সর্বোচ্চ দাওয়াতের অন্যতম মাধ্যম বা পদ্ধতি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সর্বোচ্চ কৌশল ও সদুপদেশের মাধ্যমে উম্মাহর কল্যাণে দীন– ইসলামের দাওয়াতকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করুন। উপরোল্লিখিত দাওয়াতের মাধ্যম ছাড়াও আরও যত মাধ্যম ও পদ্ধতি রয়েছে। সবগুলোর সুন্দর ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উম্মাহর কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন। লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর সদর, গাজীপুর