তীব্র তুষারপাতের মধ্যেই ইউরোপের দেশে দেশে উদযাপিত হচ্ছে যে উৎসব

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে খ্রিষ্ট ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এপিফেনি। তীব্র তুষারপাতের মধ্যেই বরফে ঢাকা পানিতে ডুব দিয়ে পালন করা হয় দিনটি। আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে দিনটি পালন করেন অনুসারীরা। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দারা চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান প্রার্থনা করে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। গ্রিসেও ব্যাপক আগ্রহে পালিত হচ্ছে দিনটি।ইউরোপজুড়ে তুষারপাত শুরু হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশে বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিষ্ট ধর্মাম্বলীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব এপিফেনি। পানিতে ডুব দিয়ে পালন করা হয় এ ধর্মীয় আচার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এ উৎসব পালন করেন বাসিন্দারা।  বরফে ঢাকা একটি হ্রদে গোসল করে নিজেক নতুন করে গঠনের শপথ নেন তারা। অনেকের বিশ্বাস ইউক্রেনে চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের চাপ কমাতে সাহায্য করে এ রীতি। বছরের শুরুতে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অনেকে। আরও পড়ুন: ফ্রান্সে তুষারপাতের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ ইউরোপের আরেক দেশ গ্রিসজুড়ে পালিত হচ্ছে ধর্মীয় উৎসব এপিফেনি। শীতল এজিয়ান সাগরে ঝাঁপ দিয়ে দিনটি পালন করেন বিভিন্ন বয়সের স্থানীয়রা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এথেন্সের দক্ষিণে সাগরপাড়ে এপিফেনি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘ব্লেসিং অব দ্য ওয়াটার্স’ অনুষ্ঠান। পানিতে নামার আগে একজন শিশু ফাদারের হাত থেকে ক্রস নিয়ে সমুদ্রে ছুড়ে দেয়। এটি অনুষ্ঠানের একটি প্রতীকী অংশ। এরপর শুরু হয় ক্রস উদ্ধারের প্রতিযোগিতা, যেখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। তুরেস্কের ইস্তাম্বুলেও ঠান্ডা গোল্ডেন হর্নের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে এপিফ্যানি দিবস উদযাপন করেছেন অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা। অনুষ্ঠানে অংশ নেন বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ। তুরস্কের আবহাওয়া দফতর জানায়, অনুষ্ঠানের সময় ইস্তাম্বুলে আকাশ আংশিক মেঘলা ছিল এবং পানির তাপমাত্রা ছিল অন্তত ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও পড়ুন: ইউক্রেনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলো যুক্তরাষ্ট্র, সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের প্রতি বছরের শুরুতে রাশিয়া, ইউক্রেন, গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিত হয় এ উৎসব। শতাব্দীপ্রাচীন এই রীতির মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এপিফেনি আজও ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক উৎসবের প্রতীক।