সুন্দরবনের গহীনে সম্প্রতি শিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদে আটকে পড়া স্ত্রী বাঘ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। বর্তমানে খুলনার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণের উদ্ধার কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চলছে তার চিকিৎসা। চিকিৎসকদের আশাবাদ, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাঘটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং এরপর তাকে আবারও তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে।বন বিভাগ জানায়, শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়ে বাঘটির সামনের একটি পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় না খেতে পারায় বাঘটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। উদ্ধার করে আনার পর প্রথম দিকে সে খাবার গ্রহণ না করলেও দুই দিন পর ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া শুরু করে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং আচরণেও স্বাভাবিকতা ফিরছে।গাজীপুর সাফারি পার্কের পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড বাঘটির চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছে। নিয়মিত ড্রেসিং, প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার সুস্থতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে বাঘটির স্বাভাবিক ক্ষিপ্রতা ফিরে আসতে দেখা গেছে। পায়ের ক্ষত অনেকটাই সেরে উঠেছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ধাপে ধাপে খাবারের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের টিম লিডার মো: আবু হাদী নূর আলী খান জানান, বাঘটির শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে বাঘটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আরও দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাঘটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।আরও পড়ুন: হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা বাঘ উদ্ধার, নেয়া হচ্ছে খুলনায়এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, বাঘটির চিকিৎসা শেষে তাকে তার নিজস্ব এলাকায় অবমুক্ত করা হবে। সুন্দরবন বন বিভাগের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, উদ্ধার হওয়া বাঘটি সুস্থ হয়ে উঠলে নিরাপদ পরিবেশে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পর সুন্দরবনে শিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অভিযানের মাত্রাও বাড়ানো হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের সড়কিরখাল সংলগ্ন এলাকায় শিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদে আটকে পড়ে বাঘটি। পরদিন স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণের উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠানো হয়।