সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ ধরার সময় বনরক্ষীদের ধাওয়ায় এক শিকারি আটক হয়েছেন। এ সময় ফাঁদে আটকে পড়া একটি জীবিত চিত্রল হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুই শিকারি পালিয়ে গেছে।বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের কচিখালী ডিমেরচর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একদল শিকারি সুন্দরবনের ডিমেরচর এলাকায় নাইলনের ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের চেষ্টা করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সুন্দরবনের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা ওই এলাকায় পায়ে হেঁটে অভিযান চালান। অভিযানের একপর্যায়ে বনরক্ষীরা দেখতে পান, বনের বিশাল এলাকাজুড়ে হরিণ শিকারের জন্য মালা ফাঁদ পাতা হয়েছে এবং একটি চিত্রল হরিণ সেই ফাঁদে আটকে আছে। বনরক্ষীরা তল্লাশি শুরু করলে শিকারিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে এক শিকারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে অন্য দুই শিকারি বনের গহিনে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। উদ্ধারকৃত হরিণটি তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। আরও পড়ুন: সুস্থ হওয়ার পথে সুন্দরবন থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘ আটক শিকারির নাম আ. হাকিম (৪০)। তিনি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বড়ইতলা গ্রামের মৃত আলী ফকিরের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়া দুই শিকারির নাম রাসেল (৩০) ও দুলাল (৪০)। তাদের বাড়িও পাথরঘাটা এলাকায়। পলাতক দুই শিকারির সন্ধানে বন বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে বনরক্ষীরা বিপুল পরিমাণ মালা ও ছিটকা ফাঁদ এবং ৭টি প্লাস্টিকের বস্তা জব্দ করেছেন। বনরক্ষীদের ধারণা, ফাঁদে আটকে পড়ার পর হরিণ জবাই করে মাংস নেয়ার জন্য ওই প্লাস্টিকের বস্তাগুলো আনা হয়েছিল। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমান জানান, আটক শিকারি আ. হাকিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার আইনে মামলা দায়ের করা হবে। এরপর তাদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।