কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্টের বালুচরে ঘটে গেল বিরল ঘটনা। বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে ডিম পেড়ে নিরাপদ নিরাপদে সাগরে চলে গেল মা কচ্ছপ। বালুচরে গর্ত করে ডিম দেয় ৯২টি, তারপর তা বালি চাপা দেয় মা কচ্ছপটি।বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে এই পুরো ঘটনার সাক্ষী হন কিটকট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মফিজ।তিনি বলেন, মঙ্গলবার দিনহত রাত ৩ টার দিকে লাবনী পয়েন্টে কয়েকজন পর্যটক কিটকট (ছাতা) বসে ছিল। লাবনী পয়েন্ট বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে আলোকিত ছিল। তারপরও হঠাৎ করে একটি বড় আকৃতির মা কচ্ছপ সাগর থেকে উঠে আসে। এসময় কচ্ছপটিতে আক্রমণ করতে চায় কুকুরের দল। কিন্তু কুকুরগুলোতে সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর বালুচরে নরম বালিতে এসে কচ্ছপটি গর্ত করে এবং তার ডিম পেরে গর্তটি বালি চাপা দিয়ে নিরাপদে সাগরে ফিরে যায়। পরে বিষয়টি লাইফ গার্ড কর্মীদের অবহিত করি।লাইফ গার্ডকর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ভোরে সৈকতে হাঁটার জন্য বের হলে লাবনী পয়েন্টের বালুচরে দেখি উৎসুক মানুষের ভিড়। তারপর কিটকট ব্যবসায়ী কচ্ছপ ডিম পেরে চলে গেছে বিষয়টি জানতে পারি। আর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা নিরাপদ করে বনবিভাগকে খবর দেয়া হয়। এরপর সকাল ৯টা দিকে বনবিভাগের কর্মকর্তারা এসে বালুচরের গর্ত থেকে একে একে ৯২টি ডিম তুলে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে।আরও পড়ুন: দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, নারী আটকদক্ষিণ বনবিভাগ কক্সবাজার রেঞ্জের কলাতলী বিটের কর্মকর্তা ক্যাচিংউ মারমা বলেন, বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে কচ্ছপের ডিম দেয়ার ঘটনা বিরল। সৈকতের লাবনীর বালুচর থেকে ৯২টি কচ্ছপের ডিম নিরাপদে উত্তোলন করা হয়। এরপর ডিমগুলো পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতের হ্যাচারিতে সংরক্ষন করা হয়েছে। কচ্ছপটি অলিভ রিডলি প্রজাতির ছিল।এর আগে চলতি মৌসুমের নভেম্বরে সেন্টমার্টিন এবং উখিয়া ইনানীতে ২টি মা কচ্ছপ ডিম দিয়ে সাগরে নিরাপদে ফিরে যায়। এসব ডিম হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।