মৃত্যুর পর কবর হচ্ছে আখিরাতের প্রথম মঞ্জিল। যারা এ মঞ্জিল থেকে সহজে মুক্তি পাবেন তাদের বাকি মঞ্জিলগুলো সহজ ও আরামদায়ক হবে। আর যারা এ মঞ্জিলে শাস্তি পাবেন তাদের পরবর্তী মঞ্জিলগুলো আরও ভয়ংকর হবে।মৃত্যুর পর মানুষের আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু আমল চলতে থাকে; নিচে এমন তিনটি আমল উল্লেখ করা হলো: নামাজ নামাজ অত্যন্ত ফজিলত ও সওয়াবের বিষয়। নামাজ পড়ে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানো জায়েজ। ইবনে কুদামা (রহ.) দোয়া, ইস্তিগফার, হজ ও রোজার ঈসালে সওয়াব সংক্রান্ত কিছু হাদিস উল্লেখ করে বলেন, وهذه أحاديث صحاح، وفيها دلالة على انتفاع الميت بسائر القرب؛ لأن الصوم والحج والدعاء والاستغفار عبادات بدنية، وقد أوصل الله نفعها إلى الميت، فكذلك ما سواها এগুলো সহিহ হাদিস এবং এ থেকে বোঝা যায় যে, সকল নেক আমল মাইয়িতের উপকারে আসবে। কারণ রোজা, হজ, দোয়া ও ইস্তিগফার শারীরিক ইবাদাত সত্ত্বেও মহান আল্লাহ এর কল্যাণ মৃত ব্যক্তিকে পৌঁছান। সুতরাং অন্যান্য নেক আমলের হুকুমও একই হবে। (আলমুগনী ৩/৫২১) রোজা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য আমল রোজা। এটি তাকওয়া অর্জনের উপায়। এক হাদিসে আছে, মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়- একটি আমলের সওয়াব দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ বলেছেন, রোযা ছাড়া। কারণ এ একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য সহবাস ও পানাহার থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম ১১৫১) আরও পড়ুন: কম্বল-তোশক নাপাক হলে পবিত্র করার উপায়হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ রোজা জিম্মায় রেখে মারা গেলে তার অভিভাবক যেন তার পক্ষ থেকে রোজা রাখে। (বুখারি ১৯৫২) হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, এক ব্যক্তি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আমার মা মারা গেছেন কিন্তু তার জিম্মায় এক মাসের রোযা ছিল। আমি কি তার পক্ষ থেকে কাযা করতে পারব? তিনি বললেন, হাঁ। আল্লাহর ঋণই অধিকতর পরিশোধযোগ্য। (বুখারি ১৯৫৩) কোরআন তেলাওয়াত পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর কালাম। বিশ্ববাসীর হেদায়েতের জন্য নাজিল হয়েছে। এতে রয়েছে মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা। এর তেলাওয়াতে হৃদয় আলোকিত হয়। হজরত মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের মাইয়িতের জন্য সুরা ইয়াসিন পাঠ করো। (আবু দাউদ ৩১২১) আরও পড়ুন: গরম পানিতে অজু, সওয়াব কি কমে যায়? আরেক হাদিসে হজরত আবদুর রহমান ইবনে আলা ইবনে লাজলাজ থেকে বর্ণিত, তার পিতা সন্তানদেরকে বলেছেন, আমি মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে কবরে রাখবে এবং بسم الله وعلى سنة رسول الله বলে সুন্দরভাবে মাটি বিছিয়ে দিবে। তারপর আমার মাথার কাছে সুরা বাকারার শুরু ও শেষাংশ পাঠ করবে। আমি ইবনে উমর রা.-কে তা পছন্দ করতে দেখেছি। (তারিখে ইবনে মায়ীন, দূরী সংকলিত ২/৩৭৯-৩৮০)