ফরিদপুর শহরে সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শহরের একটি বিশাল ময়লার স্তূপ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে এখন রঙিন সাজে সেজেছে। সেখানে শোভা পাচ্ছে নিখুঁত ক্যালিগ্রাফি। পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনে রোপণ করা হয়েছে গাছের চারা। স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে যেন নতুন রূপে সেজে উঠছে ফরিদপুর শহর।জানা যায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকানের বর্জ্য এবং হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যে এলাকাটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছিল। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিএডিসি সেচ বিভাগ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে ছিল এই ময়লার ভাগাড়। ময়লার তীব্র দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দাসহ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন। এছাড়া জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানি থেকে এডিস মশারও প্রজনন হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে এগিয়ে আসে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ইয়ংস্টার সোশ্যাল অর্গানাইজেশন’। সংগঠনের একঝাঁক তরুণ-তরুণীর উদ্যোগে এবং ফরিদপুর পৌরসভার সহযোগিতায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ফুটপাতে অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ময়লা পরিষ্কারের পর মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে জায়গাটি নেট (জাল) ও খুঁটি দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ সেখানে ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে ক্যালিগ্রাফি ও সচেতনতামূলক বার্তা। একই সঙ্গে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন বলেন, ‘প্রায় ৩০০ মিটার জায়গাজুড়ে এটি দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তূপে পরিণত ছিল। পরবর্তীতে এই জায়গার ওপর ভিত্তি করে আমরা ফরিদপুর পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং তাদের সহযোগিতায় গত ২১ ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে ময়লা পরিষ্কার করে নেট ও খুঁটি দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি ও সতর্কবার্তা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। শহরের অন্যান্য জায়গায়ও সৌন্দর্য ফেরাতে আমরা কাজ করে যাব।’ এ কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ পরিবেশ দূষণ রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশকে আমরা প্রতিনিয়ত দূষিত করে যাচ্ছি। আজ আমরা এখানে পরিষ্কার করেছি, অন্য জায়গা ঠিকই কেউ না কেউ দূষিত করছে। কোনো প্রযুক্তি দ্বারা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, যদি না আমরা নিজেরা সতর্ক হই। বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে আমরা আহ্বান জানাই, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন, আমরা পরিবেশগত উন্নয়নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফরিদপুর শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে আমরা কাজ করে যাব। দেশের মধ্যে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জেলা হিসেবে ফরিদপুরকে গড়ে তুলতে চাই। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করছি। শহরকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’