সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

সারাদেশে আজ (বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখা হবে।বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সেলিম খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করেছে ব্যবসায়ী সমিতি। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে এলপি গ্যাসের চরম সংকটময় মুহূর্ত চলমান। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করে নতুনভাবে মূল্য নির্ধারণ করে কোম্পানি, পরিবেশক এবং ভোক্তাদের চরম বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলেছে; যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। যেখানে সংকটই প্রধান সমস্যা, সেখানে ভোক্তার ওপর দেয়া মূল্য নিয়ে কেন বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং কেন সংকট দূরীকরণের উপায় খুঁজে বের করা হচ্ছে না? আরও পড়ুন: কারসাজিতে বেড়েছে এলপি গ্যাসের দাম: জ্বালানি উপদেষ্টা ভোক্তা অধিদফতর পরিচালিত অভিযানের কারণে দেশের জনগণের মধ্যে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়; তা সংকট পরিস্থিতিতে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, যার প্রভাবে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিইআরসি এবং কোম্পানির সমন্বয়ে আমদানির মূল সংকট দূর করে বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করাই ছিল এই সমস্যার সঠিক সমাধান। কিন্তু তা না করে অহেতুক পরিবেশকদের ভোক্তা অধিদফতর দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, যা একেবারেই অযৌক্তিক। ব্যবসায়ী সমিতি জানায়, বিইআরসি সরকারিভাবে মাসে একবার মূল্য ঘোষণা করলেও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন জটিলতার কারণে কোম্পানির তরফ থেকে মাসে একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করা হয়। যার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে পরিবেশকদের বহন করতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে একাধিকবার বিইআরসির কাছে লিখিত চিঠির মাধ্যমে সাক্ষাৎ প্রত্যাশী হলেও বিইআরসি সেই সুযোগ দেয়নি। এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান চাই। জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিইআরসি, লোয়াব এবং পরিবেশকদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ী সমিতি আরও বলছে, পরিবেশক কমিশন ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় এবং রিটাইলার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা করে মোট কমিশন ১৫০ টাকায় উন্নীত করা হোক। বাংলাদেশে প্রায় ২৭ টি কোম্পানির প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে কিন্তু এই মুহূর্তে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল হচ্ছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ খালি থাকার কারণে পরিবেশকদের ৪০ শতাংশের ওপর মোট খরচ বহন করতে হচ্ছে; যা মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। আরও পড়ুন: রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট, চরম বেকায়দায় নগরবাসী বেশিরভাগ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, সেই সব কোম্পানির পরিবেশকরা সিলিন্ডার রিফিল করতে না পারার কারণে এখন দেউলিয়ার পথে। সরকারকে সেই সব নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারের ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে এবং নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারগুলো রক্ষার্থে ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।এ পরিস্থিতিতে ৮ জানুয়ারি থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সব এলপি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়াও, সব কোম্পানি প্লান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এর আগে গত রোববার (৪ জানুয়ারি) ভোক্তা পর্যায়ে জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। নতুন দাম রোববার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে।