আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় মস্কো-ওয়াশিংটন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাংকারটিকে পাহারা দিয়ে রাখতে মস্কো নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে, এমন খবরের মধ্যেই বুধবার (জানুয়ারি) রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকার জব্দের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কোস্ট গার্ড এবং সামরিক বিশেষ বাহিনী ‘মারিনেরা' নামের ট্যাংকারটি জব্দ করে বলে জানা গেছে। অতীতে মারিনেরা ট্যাংকারে ভেনেজুয়েলার তেল বহন করা হত। তবে বর্তমানে এটি খালি ছিল। এই খালি ট্যাংকারটিই যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করেছে। ট্যাংকারটির নাম আগে ছিল বেলা-ওয়ান। এর নাম বদলে মারিনেরা রাখা হয়। গায়ানার পতাকাবাহী ট্যাংকারটি পরে রুশ ট্যাংকারে রূপান্তরিত করা হয়। আরও পড়ুন: মার্কিন অভিযান / রুশ-পতাকাবাহী জাহাজের পর আরও এক ট্যাংকার জব্দ! এই ট্যাংকার জব্দ নিয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকার জব্দ করে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ভঙ্গ করেছে। বিবৃতিতে রুশ পরিবহণ মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো দেশই অন্য দেশে নিবন্ধিত করা কোনো জাহাজের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার রাখে না। একইদিন ক্যারিবীয় সাগরে ‘এম সোফিয়া’ নামের আরেকটি ট্যাংকার জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। আরও পড়ুন: আটলান্টিকে তেল ট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, রুশ সাবমেরিন-যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি! মার্কিন সেনাবাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, ট্যাংকারটি ছিল ‘রাষ্ট্রহীন’ এবং ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত’।, পাশাপাশি এটি ‘অবৈধ কার্যকলাপে’ জড়িত ছিল। তাদের দাবি, জাহাজটি তথাকথিত একটি ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তবে সাউদার্ন কমান্ড এই অভিযানের সঙ্গে সরাসরি ভেনেজুয়েলার সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেনি।