মার্কিন অর্থনীতিতে প্রতি বছর দশ হাজার কোটি ডলারের বেশি অবদান রাখেন বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে গবেষণার শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত করেছেন তারা। প্রতি বছর মার্কিন অর্থনীতিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যোগ করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অত্যাধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে অবদানও রাখছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে একাত্ম করতে ব্যাপক চাপ প্রয়োজন এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ শুরু করেছে। যার জেরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের পাশাপাশি তাদের আতিথেয়তা প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করেছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেশ কিছু বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও ভিন্নমত দমনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। যার প্রভাব পড়ছে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, মার্কিন অর্থনীতি এবং শিক্ষার বৈশ্বিক নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলো মার্কিন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেয়ার একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর এই কড়াকড়ি আসলে অভিবাসন কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি অংশ। যার ফলে নানা ছুতোয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল এবং ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পরও ভিসা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আরও পড়ুন: এজেন্টের খপ্পর থেকে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে বাংলাদেশি তরুণের ‘অনন্য স্টার্টআপ’ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এখানে প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত এপ্রিলে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০০ কোটি ডলারের বেশি ফেডারেল গবেষণা অনুদান স্থগিত করে। এর প্রতিবাদে হার্ভার্ড একটি মামলা দায়ের করে এবং যুক্তি দেয় যে, এই স্থগিতাদেশ `অসাংবিধানিক'। পরবর্তীতে মে মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষমতা বাতিল করে দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্যাম্পাসে ‘সহিংসতা ও ইহুদিবিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সমন্বয় করছে।’ এই পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হওয়া অথবা ভিসা হারিয়ে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার মতো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। কয়েক সপ্তাহ পরে ট্রাম্প একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন, যা হার্ভার্ডে পড়তে আসা বা বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে। তার দাবি ছিল, এটি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। ট্রাম্প অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের একটি ধারা ব্যবহার করে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, যা রাষ্ট্রপতিকে এমন যেকোনো বিদেশিকে বাধা দেয়ার অধিকার দেয় যাদের প্রবেশ `যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর'। সেপ্টেম্বর মাসে একজন ফেডারেল বিচারক হার্ভার্ডের পক্ষে রায় দেন এবং সরকারের গবেষণা অনুদান স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে রায় হওয়া সত্ত্বেও নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ হার্ভার্ড এবং প্রশাসনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে। এক মাস পর হোয়াইট হাউস নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি প্রস্তাবিত ‘কম্প্যাক্ট ফর অ্যাকাডেমিক এক্সেলেন্স ইন হায়ার এডুকেশন’ (উচ্চশিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেষ্ঠত্বের চুক্তি) জারি করে। এতে বলা হয়, প্রশাসনের দাবি মেনে চললে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফেডারেল তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। এই চুক্তির শর্তের মধ্যে ছিল, টিউশন ফি না বাড়ানো, ভর্তির ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্টিং (যেমন SAT/ACT) বজায় রাখা এবং ক্যাম্পাসে নির্দিষ্ট ধরনের বক্তব্য বা মতামত নিষিদ্ধ করা। নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটিই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। মে মাসে হার্ভার্ডের বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষমতা বাতিলের পরপরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা ‘আগ্রাসীভাবে বাতিল’ করবে। বিশেষ করে যারা ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে’ পড়াশোনা করছে তাদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে, যদিও কোন বিষয়গুলো এর আওতাভুক্ত তা তিনি স্পষ্ট করেননি। প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, চীনা শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের ওপর বেইজিংয়ের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে আগস্টে প্রশাসন ঘোষণা করে যে, তারা ৬ লাখ চীনা শিক্ষার্থীকে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেবে, যাকে ট্রাম্প একটি ‘ব্যবসায়িক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষার ওপর প্রশাসনের এই কড়াকড়ির প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন-এর ২০২৪ সালের ‘ওপেন ডোরস’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে রেকর্ড ১১ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ শতাংশই ছিল চীন ও ভারতের। এছাড়া বাংলাদেশ, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ান থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে। এই বিদেশি শিক্ষার্থীর অনেকেই পড়াশোনা শেষে এইচ-ওয়ান,বি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে সেদেশেই থেকে যান। এই প্রোগ্রামটি মার্কিন নিয়োগকর্তাদের বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়, যা স্থানীয়ভাবে খুঁজে পাওয়া কঠিন। আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা ট্রাম্পের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রতিক এই নীতিগুলো মার্কিন উচ্চশিক্ষা ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতগুলোকে দক্ষ জনবল থেকে বঞ্চিত করবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা এনএএফএসএর তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছে এবং তাদের এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ৩ লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান করে, যা মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক সহায়তার খরচ মেটাতে সহায়তা করে। প্রশাসনের নীতির প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথমবার ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এনএএফএসএর মতে, এর ফলে ১.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং প্রায় ২৩ হাজার কর্মসংস্থান হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতে, ভিসা জটিলতা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণেই এই ধস নেমেছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের একটি বহিঃপ্রকাশ। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অভিবাসন আইন প্রয়োগের ভিত্তি হতে পারে। তিনি ইসরায়েল-বিরোধী, মার্ক্সবাদী বা ফ্যাসিবাদী মতাদর্শ ধারণকারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর কড়াকড়িকে তিনি উচ্চশিক্ষায় ‘লিবারেল বা বামপন্থী পক্ষপাতিত্বের’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরছেন। এমনকি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তির ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। এদিকে যেসব শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হয়নি, তাদেরও দেশের বাইরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, কারণ তারা পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতিগুলো কিছু রিপাবলিকান নেতার প্রশংসা পেলেও ডেমোক্র্যাটরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কংগ্রেশনাল এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাস বলেছে, ‘তদন্ত ছাড়াই জাতীয়তার ভিত্তিতে পাইকারি হারে ভিসা বাতিল করাটা বর্ণবাদী সিদ্ধান্ত। বিদেশি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই ভিসা নীতিকে ‘রাজনৈতিকভাবে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে সমালোচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কঠোর ভিসা নীতির কারণে শিক্ষার্থীরা বিকল্প গন্তব্য খুঁজবে। এরই মধ্যে এশিয়ার বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান হার্ভার্ড শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রস্তাব করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে হংকং, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। এর মধ্যে হংকং সবচেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। হংকং সরকার সরাসরি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হার্ভার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করছে। দেশটির হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘ওপেন ইনভিটেশন’ বা সরাসরি আমন্ত্রণপত্র জারি করেছে। তারা শর্তহীন ভর্তি এবং দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং জানিয়েছে, যেসব পিএইচডি শিক্ষার্থী হার্ভার্ডে সমস্যায় পড়েছেন, তারা চাইলে তাদের মূল সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়েই এখানে গবেষণা চালিয়ে যেতে পারবেন। ইউনিভার্সিটি অব হংকং বর্তমানে এশিয়ার এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তারা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে। অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছে চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং এবং হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। জাপান সরকার তাদের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের ‘অ্যাকাডেমিক ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে গ্রহণ করতে বলেছে। ইউনিভার্সিটি অব টোকিও জাপানের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে গ্রহণ করার জন্য একটি বিশেষ প্রোগ্রাম চালুর কথা বিবেচনা করছে। ওসাকা ইউনিভার্সিটি সরাসরি টিউশন ফি মওকুফ, গবেষণার অনুদান এবং এমনকি যাতায়াত খরচে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। কিয়োটো ইউনিভার্সিটিও একই ধরনের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। কোরিয়া ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যে একটি ‘ট্রান্সফার প্রোগ্রাম’ বা বদলি প্রক্রিয়া চালু করার পথে রয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা হার্ভার্ড ছেড়ে এখানে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। তাইওয়ানের যেসব শিক্ষার্থী হার্ভার্ডে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের জন্য ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটি বিশেষ বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। এশীয় অন্যান্য দেশের মধ্যে মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটি হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের সরাসরি তাদের প্রতিষ্ঠানে বদলি হয়ে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ম্যাকাও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, আবাসন এবং ক্রেডিট ট্রান্সফার সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের টেনে নিয়ে বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। একই সঙ্গে এশিয়ার দেশগুলো চাইছে মেধাবীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে এনে মেধা সম্পদ কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এগিয়ে যেতে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিরোধী মনোভাব দেশটির প্রতিযোগী দেশগুলোকে মেধা সম্পদ, শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে নিয়ে যাবে। যার সুদূর প্রসারী প্রভাব তৈরি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন, গবেষণা, উদ্ভাবন, সমাজ ব্যবস্থায়। এমনকি দেশটির শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখাও কঠিন হবে বলে মনে করে খোদ মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবন কমে যাওয়া, মেধাবীদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও সমাজ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ সীমিত হতে থাকলে তথ্য বিশ্লেষণ এবং মানবিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতাও কমে আসবে। ফলে একটা সময় দেশটির বিশাল সামরিক শক্তি প্রয়োজনের তুলনায় কম মেধাবী মানুষের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। যেটি গোটা পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তথ্য সূত্র: আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) বিশ্লেষণ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ, গবেষণাপত্র এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত।