প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। অস্বস্তিতে জামায়াত-এনসিপি / সবাই ছুটছে একদিকে - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ যেন এবার বেশ কিছুটা আগেই পালটে যাচ্ছে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ী সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন, এমনকি বাংলাদেশস্থ কূটনীতিকসহ সবাই ছুটে যাচ্ছেন বিএনপির কাছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তারা সবাই শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। বসছেন বৈঠকেও। ভোটের আগে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠককে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তবে এ ঘটনাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখছে না নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বেশকিছু দল। জানা গেছে, তাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে এ ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন দল দুটির নেতারা। এলপিজির সরবরাহ সংকট কাটছে না শিগগিরই, তৈরি হচ্ছে নানামুখী জটিলতা - দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ ও এলপিজি অপারেটরদের মধ্যে বৈঠকের পরও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। অন্যদিকে মূল্য সমন্বয় করা ও ‘হয়রানি-জরিমানা’ বন্ধের দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ থেকে দেশব্যাপী এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখবে তারা। গতকাল সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এমন এক নোটিস জারি করে ব্যবসায়ী সমিতি। এতে বলা হয়, সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে। কোটিপতি প্রার্থী ৫০১ জন - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫০১ জনই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। অর্থাৎ গতকাল বুধবার পর্যন্ত মোট বৈধ প্রার্থীর ২৭ দশমিক ১৯ শতাংশই কোটিপতি। ৭ জন প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকার বেশি। সর্বোচ্চ কোটিপতি প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। এই তালিকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন।ভিসা, প্রবাসী আয় ও ভ্রমণে কড়াকড়ি যুক্তরাষ্ট্রের - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) পাঠাতে নগদ লেনদেনে প্রতি ১০০ ডলারে অতিরিক্ত ১ ডলার কর চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে কার্যকরের ঘোষণা আগেই ছিল। এবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দেয়ার ঘোষণা এল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতাও বন্ডের শর্তে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের রেমিট্যান্স, ভিসা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ বাংলাদেশের জন্য নতুন করে চাপ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত কর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। এর ফলে অনানুষ্ঠানিক পথে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহিত করতে পারে। আর ‘ভিসা বন্ড’ হিসেবে জামানত বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করবে।জাতীয় নির্বাচনের আগে তীব্র গাড়িসংকটে পুলিশ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দেবেন নিরাপদে’ স্লোগান নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। তবে নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে যানবাহনসংকট। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পুলিশের গাড়িবহরে ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষত এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদর দফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে দেশে ৪৬০টি থানায় অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালানো হয়। পুলিশের ৫২৬টি সরকারি গাড়ি আগুনে পোড়ানো হয়। আরও ৫৩৩টি গাড়ি ভাঙচুর করে অকেজো করা হয়। সব মিলিয়ে এক হাজার ৫৯টি যানবাহন সম্পূর্ণ ভস্মীভূত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে চার হাজারের বেশি যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে।