স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা-মালের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা।সম্প্রতি মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন। এ বৈঠকের মূল বিষয় ছিল উচ্চশিক্ষা-বিশেষত চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা শিক্ষায় কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি উভয় দেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা উন্নয়ন। যা দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে বৈঠকে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ বৈঠকে মালদ্বীপ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ এবং প্রতিমন্ত্রী আব্দুল রহিম হাসান সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কারিগরি প্রতিনিধিরা। আরও পড়ুন: অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিলো মালদ্বীপ অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম ও বাংলাদেশ থেকে আগত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে উঠে চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা শিক্ষায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে এমবিবিএস, বিডিএস ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা পূরণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার মান, ব্যয়-সাশ্রয়ী কাঠামো ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে ১১২টি মেডিকেল কলেজে মোট ১১ হাজারের বেশি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ আসন বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে, যা মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের বিশেষ দূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আরও জানায়, কাঠামোবদ্ধ ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি গ্রামীণ ক্লিনিক ও হাসপাতালভিত্তিক ইন্টার্নশিপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা মালদ্বীপের দ্বীপভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়ক হবে। বর্তমানে ৬৫ জন মালদ্বীপের মেডিকেল ইন্টার্ন বাংলাদেশে প্রশিক্ষণরত রয়েছেন এবং চলতি বছরে ৮০টির বেশি ইন্টার্নশিপ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। মালদ্বীপের প্রতিনিধিদল এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ মালদ্বীপের স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করবে। বৈঠকের শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল চিকিৎসা শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেন, যা দুইদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।