মহান আল্লাহ মানুষের হেদায়েতের জন্য নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোরআন পাঠিয়েছেন। পৃথিবীর মানুষ যেন সত্য, সঠিক ও সুন্দরের পথে চলতে পারে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে এমন একটি দোয়া রয়েছে; যা আল্লাহ কবুল করেছেন।হজরত আইয়ুব (আ.) ছিলেন সম্ভ্রান্ত ও সম্পদশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। ধনাঢ্য নবী আইয়ুব (আ.)-এর অনেক সন্তানসন্ততি ছিল। মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী ও রসুলদের পরীক্ষা করেন। তেমনই পরীক্ষা ছিল তার সন্তানসন্ততি, ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া। তিনি এক ধরনের শারীরিক রোগে আক্রান্ত হন। আরও পড়ুন: কম্বল-তোশক নাপাক হলে পবিত্র করার উপায়এ রোগের সময় তার শরীরের ওপরে বিভিন্ন কীট-পতঙ্গ চলাফেরা করতো। রোগের কারণে তার শরীর থেকে মাংস খসে পড়ে এমনকি তাঁর শরীরে হাড় ও শিরা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তাঁর স্ত্রী তার শরীরের নিচে ছাই বিছিয়ে রাখতেন। পুরো শরীর আক্রান্ত হওয়ার পর শুধু জিহ্বা ও হৃৎপিণ্ড অক্ষত ছিল। এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহ তায়ালার জিকির করতেন। এমন কঠিন পরিস্থিতেও আল্লাহর প্রশংসা করতেন। রোগ বাড়তে থাকলে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকেন। তিনি আল্লাহর কাছে যে দোয়াটি করেছিলেন তাহলো-- أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ (উচ্চারণ: আন্নী মাচ্ছানিয়াজ্জুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমিন।) অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দুঃখ-ক্লেশ (ব্যাধি) স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা আম্বিয়া: ৮৩) আরও পড়ুন: গরম পানিতে অজু, সওয়াব কি কমে যায়?এ দোয়া কবুল করে মহান আল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি তার (সেই) আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তার পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সঙ্গে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশত : আর এটা ইবাদতকারীদের জন্যে উপদেশস্বরূপ। (সুরা আম্বিয়া: ৮৪)