একজন কৌতুকের জাদুকর, করতেন মঞ্চনাটক। দর্শকের করতালির শব্দই তাকে মঞ্চ থেকে নিয়ে আসে টেলিভিশনে। হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলেন গভীর শিল্পচেতনা, জীবনদর্শন আর অসীম ভালোবাসা। তিনি কৌতুকের কিংবদন্তি টেলি সামাদ।১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেয়া আবদুস সামাদ হয়ে ওঠেন পর্দার প্রিয় মুখ টেলি সামাদ। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। তবে রঙতুলি নয়, তার সত্যিকারের ক্যানভাস হয়ে উঠেছিলো রূপালি পর্দা। যে ক্যানভাসে তিনি এঁকেছেন হাসির হাজারো রঙ।১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু। এরপর ‘চোরাবালি’, ‘নোটনবউ’, ‘সুন্দর আলী’-সহ প্রায় ছয় শতাধিক সিনেমায় রেখেছেন হাসির ছোঁয়া। সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশন ও মঞ্চ নাটকেও ছিল তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। আরও পড়ুন: বিদেশি সিনেমায় সবচেয়ে বেশি অভিনয় করেছিলেন অঞ্জনাটেলি সামাদের অভিনয়ে ছিল জীবনের হাস্যরসকে বাস্তবের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়ার বিশেষ ক্ষমতা। বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ, অদ্ভুত মুখভঙ্গি আর অভিনব টাইমিং- কৌতুককে তিনি বানিয়েছিলেন একধরনের শিল্প, যা ছুঁয়ে যেত হৃদয়ের গভীরতাকে। প্রতিটি ফ্রেমে ফুটে উঠতো জীবনের আনন্দ-বেদনার মিশ্র প্রতিচ্ছবি।শুধু অভিনেতা নয়, ছিলেন গায়কও। রেডিও, টেলিভিশনে গেয়েছেন, করেছেন উপস্থাপনাও। তার হাসি এখনো ভেসে আসে সিনেমার পর্দা পেরিয়ে দর্শকমনে। আরও পড়ুন: মারা গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তার বাইপাস সার্জারি করা হয়। ২০১৮ সালের শেষ দিকে তার রক্তে লোহিত রক্তকণিকার স্বল্পতা দেখা দেয়। এছাড়াও টেলি সামাদের খাদ্য নালীতে সমস্যার পাশাপাশি বুকে সংক্রমণ, ডায়াবেটিস ছিল। টেলি সামাদ ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।