নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এক মাসে শীতজনিতসহ বিভিন্ন রোগে এক হাজার ৮৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গত ডিসেম্বর মাসের জরিপে এ তথ্য জানা যায়।হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ভাইরাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু। ডিসেম্বর মাসে ৪ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ৫৩২ জন ভর্তি হয়ে ১৩ জন মারা যায় এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৫৫ জন ভর্তি হয়ে ৫ জন মারা যায়।হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া শিশুদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত ও সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত ছিল। এর আগেও নভেম্বর মাসে এক হাজার ৪৭৫ জন শিশু ভর্তি হয়ে ১৬ জন এবং অক্টোবর মাসে এক হাজার ৩৭৬ জন শিশু ভর্তি হয়ে ২৩ জন শিশু মারা যায়। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় কমছে তাপমাত্রা, হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীনোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। অনেকে সিট না পেয়ে মেঝেতে গাদাগাদি করে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আলা উদ্দিন শিহাব নামে এক শিশুরোগীর মা বিবি খাদিজা বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের রামগাতি থেকে তিনদিন আগে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা দিতে এখানে ভর্তি করা হয়েছে। হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে চলছে স্যালাইন ও ইনজেকশন এবং নাকে নেবুলাইজেশন দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।’মো. মামুন নামে এক শিশুর মা সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। সামান্য ঠান্ডা লাগলেই অসুস্থ হয় যায়। এক মাসে দুবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। গরিব মানুষের পক্ষে বারবার চিকিৎসা করানো খুব কষ্টের।’শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকেয়া বেগম বলেন, ‘শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। তাই শিশু ওয়ার্ডগুলোতে নার্সের সংখ্যা বাড়ানো খুব প্রয়োজন।’আরও পড়ুন: গাইবান্ধা হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ, শয্যা সংকটে ভোগান্তিএ বিষয়ে শিশু কনসালটেন্ট ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সি বলেন, ‘শিশু মৃত্যুর পেছনে শুধু শীত নয়, জন্মকালীন জটিলতা, সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, সেপসিস ও দুর্ঘটনাও দায়ী। তবে শীতকালে শিশুদের গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে আনা খুব জরুরি।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নোয়াখালীতে আশপাশের জেলা থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে প্রতিদিন রোগীর চাপ একটু বেশি থাকে। এ হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী একেবারেই অপ্রতুল। রোগীদের চাপ সামাল দিতে দ্রুত আরও চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেয়া জরুরি।’জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নোয়াখালীতে বেশ কিছুদিন থেকে সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শীত অনুভূত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবারও (৮ জানুয়ারি) এ তাপমাত্রাই ছিল। এ ছাড়া দিনের তাপমাত্রা ১৪-১৫ ডিগ্রিতে থাকে।’