বর্তমানে ওজন কমানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ডায়েট ট্রেন্ড দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। কখনো লেবু পানি, কখনো ডিটক্স ড্রিঙ্ক, আবার কখনো নতুন কোনো খাবারের উপর ভিত্তি করে তৈরি পানীয়। এই ধরণের ট্রেন্ড মানুষের আগ্রহ দ্রুত আকর্ষণ করে, কারণ তারা সহজে ও দ্রুত ফলাফল পেতে চায়। এ ধরনের ডায়েটের মূল উদ্দেশ্য হলো পেট ভর্তি রাখার বা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যালোরি কমানো। উদাহরণ হিসেবে ‘ওটজেম্পিক’ নামক একটি পানীয় ভাইরাল হয়েছে। নাম শুনে অনেকেই ভাবতে পারেন, এটি জনপ্রিয় ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক-এর কোনো বিকল্প। কিন্তু বাস্তবে এই ট্রেন্ড কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওটজেম্পিক কীওটজেম্পিক কোনো ওষুধ নয়। এটি মূলত ওটস দিয়ে তৈরি একটি পানীয়, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় হালকা ব্রেকফাস্ট বা ডায়েটের অংশ হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে। নামটি জনপ্রিয় ডায়াবেটিস-ওজন নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ওজেম্পিকের সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছে, যাতে মানুষের নজর কাড়ে। তবে কার্যকারিতা ওজেম্পিক ওষুধের মতো নয়।ওটজেম্পিক বানাতে সাধারণত আধা কাপ ওটস, ১ কাপ পানি এবং সামান্য লেবুর রস ব্লেন্ড করা হয়। অনেকেই সকালে খালি পেটে বা ব্রেকফাস্টের বিকল্প হিসেবে এটি পান করছেন। ওজন কমাতে ওটজেম্পিকের ভূমিকাওটজেম্পিক পানীয়ের প্রধান উপাদান ওটসে প্রচুর ফাইবার থাকে। এটি পেট ভরে রাখে এবং বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়। ফলে যারা এটি পান করে দীর্ঘ সময় কিছু খান না, তাদের দিনে মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমে যায়।। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমার মূল কারণ কোনো ‘ম্যাজিক উপাদান’ নয়, বরং খাবারের পরিমাণ কমানো। ওজেম্পিকের সঙ্গে পার্থক্যওজেম্পিকের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়,ওজেম্পিক একটি প্রেসক্রিপশন ওষুধ। এটি শরীরের হরমোনের ওপর কাজ করে এবং ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।অন্যদিকে, ওটজেম্পিক কেবল একটি খাবার। এটি শরীরের হরমোন বা বিপাক প্রক্রিয়ায় সরাসরি কোনো পরিবর্তন আনে না। স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতাপুষ্টিবিদরা বলেন, শুধুমাত্র এই পানীয়ের ওপর নির্ভর করে অন্যান্য খাবার বাদ দেওয়া ঠিক নয়। এতে শরীরের প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। দীর্ঘদিন এভাবে চললে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওজন কমানোর কোনো শর্টকাট নেই। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। তবে ওটস নিজেই একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। মাঝে মাঝে এটি হালকা ব্রেকফাস্ট বা ডায়েটের অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি নিউজ আরও পড়ুন: নাশপাতি খেলে কী হয় দেখতে স্বাস্থ্যকর হলেও এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এসএকেওয়াই/