সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা

সারাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ রেখেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। এতে গ্যাস না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আবাসিকে গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক জায়গায় রান্না কার্যত বন্ধ। বিকল্প হিসেবে ভরসা ছিল এলপিজি সিলিন্ডার। কিন্তু সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ায় বাসার জন্য গ্যাস কিনতে দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মানুষ। চাকরিজীবী আব্দুল হালিম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এলাকার একের পর এক দোকান ঘুরেও তিনি গ্যাস পাননি। এমন পরিস্থিতি শুধু একজনের নয়, অনেকেরই একই অভিজ্ঞতা। রাজধানীজুড়ে বেশিরভাগ এলপি গ্যাসের দোকানই বন্ধ। কোথাও দোকান খোলা থাকলেও সেখানে পড়ে আছে খালি সিলিন্ডার। বাড়তি দাম দিতে রাজি থাকলেও গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। ভোক্তাদের অভিযোগ, নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও তারা পাইপলাইনের গ্যাস পান না। আবার রান্নার জন্য বাধ্য হয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়। গত কয়েকদিন অতিরিক্ত দামে হলেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু এখন সেটিও মিলছে না। ফলে অনেক বাসায় রান্নাবান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আরও পড়ুন: সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা গ্যাস সংকটে অনেকের শেষ ভরসা ছিল হোটেল-রেস্তোরাঁ। তবে এলপিজি সংকট সেখানে প্রভাব ফেলেছে। হোটেল মালিকরা বলছেন, গ্যাস না পাওয়ায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে খাবার খেতে এসে মানুষ ফিরে যাচ্ছেন। মূলত এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের এই দেশব্যাপী সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের ঘোষণায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান বলেন, বিইআরসি নতুন করে মূল্য সমন্বয় না করলে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ না করা হলে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান দেশের জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা সংকট পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। এর প্রভাবে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে এলপিজি আমদানিতে ভ্যাট কমানো এবং দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।