ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ। কোথাও কোথাও দাঙ্গা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রধান বিচারপতি সতর্ক করে বলেছেন, সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে।একের পর এক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সংঘাতের চাপে নুয়ে পড়ছে ইরানের অর্থনীতি। জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতি। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর নেমে গেছে ডলারের বিপরীতে প্রায় ১৩ লাখ ৯০ হাজারে। যা দেশটির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বনিম্ন মান। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই দেশটির অর্থনৈতিক পতনের মূল কারণ। ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং এর প্রেক্ষিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাস্তা নামেন তেহরানের ব্যবসায়ীরা। এরপর তা তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। আরও পড়ুন: ইরানের পতাকা নামিয়ে ফেললেন বিক্ষোভকারীরা! (ভিডিও) বিক্ষোভ প্রশমনে সরকার সীমিত সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অর্থ মৌলিক খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে। এরপরও থামেনি বিক্ষোভ। গত কয়েকদিনে বিক্ষোভের মধ্যে কোথাও কোথাও সহিংস ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছেন, চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। আটক করা হয়েছে ১ হাজার ২শ’র বেশি মানুষকে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ বলছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৩শ’ পুলিশ ও আইআরজিসি সদস্য আহত হয়েছেন। আরও পড়ুন: ইসরাইলে আগাম হামলার হুমকি দিলো ইরান! এই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোসেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বা তা সমর্থন করছে, তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে। সড়কে অশান্তি ও অনিরাপত্তা সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামি বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং দেশের সামরিক প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। অপরদিকে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে বলেছেন, ইরান শত্রুর সামনে কখনোই মাথা নত করবে না।