পেছালো বিজয়ের ‘জন নায়ক’: বক্স অফিসে ঝড় তোলা নিয়ে শঙ্কা

তামিল সুপারস্টার থালাপাতি বিজয়ের নতুন ছবি ‘জন নায়ক’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল ব্যাপক। পঙ্গলের ঠিক আগে, ৯ জানুয়ারি মুক্তির কথা ছিল ছবিটির। ধারণা করা হচ্ছিল, প্রথম দিনেই প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যবসা করবে এই ছবি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেন্সর জটিলতায় মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে - নতুন তারিখে মুক্তি পেলে কি বক্স অফিসে ঝড় তুলতে পারবে ‘জন নায়ক’?দক্ষিণ ভারতে পঙ্গল মানেই সিনেমার বড় উৎসব। ৯ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ছুটির কারণে এই সময়ে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো সাধারণত রেকর্ড ব্যবসা করে। এবছর এই সময়েই মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল বিজয়ের ‘জন নায়ক’ আর শিবকার্তিকেয়নের ‘পরাশক্তি’। দুই ছবিতেই রাজনৈতিক ইঙ্গিত থাকায় আলোচনাও ছিল তুঙ্গে। তবে দু’টিই সেন্সর বোর্ডের বাধায় আটকে যায়। এর মধ্যে শোনা যাচ্ছে, পরিচালক সুদা কঙ্গনার ‘পরাশক্তি’ ১০ জানুয়ারিতে মুক্তি পেতে পারে। কিন্তু ‘জন নায়ক’- এর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। সেন্সর বোর্ড ছবিটির সার্টিফিকেট আটকে রেখেছে। নতুন করে রিভিউ কমিটি বসানোর কথা জানিয়েছে বোর্ড। বিষয়টি নিয়ে ৯ জানুয়ারি আবার মাদ্রাজ হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার কথা। এই কারণেই ৯ জানুয়ারির মুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে নির্মাতা সংস্থা কেভিএন প্রোডাকশনস। আরও পড়ুন: এবার ‘জলদস্যু’ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া! এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কারণ, এটিই নাকি সিনেমা জগতে বিজয়ের শেষ ছবি, রাজনীতিতে পুরোপুরি নামার আগে। তামিলনাড়ুর নির্বাচনের আগে নিজের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) - এর আত্মপ্রকাশের আবহেই আসছিল ‘জন নায়ক’। ফলে পঙ্গলের লম্বা ছুটিকে বেছে নেয়াই ছিল বক্স অফিসের দিক থেকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।  মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ায় এখন বড় আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রযোজকরা। ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বে অগ্রিম টিকিট কাটা দর্শকদের টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। হিসাব বলছে, প্রায় ৪০ কোটি টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। শুধু আমেরিকাতেই অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ ডলার। মালয়েশিয়ায় প্রথম দিনের জন্য বিক্রি হয়েছিল প্রায় এক লাখ টিকিট। ভারতে প্রি-সেলেই উঠেছিল প্রায় ৭.৭ কোটি রুপি। প্রযোজক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব জি ধনঞ্জয়ন জানিয়েছেন, ‘জন নায়ক’- এর মতো বড় ছবি পিছিয়ে গেলে প্রযোজকদের ওপর বড় আর্থিক চাপ পড়ে। তামিলনাড়ু, কেরালা ও বিদেশের স্বত্ব আগেই ন্যূনতম গ্যারান্টির ভিত্তিতে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু এই তিন জায়গা থেকেই প্রায় ১৯৩ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে। এই অঙ্ক ধরা হয়েছিল পঙ্গলের আট দিনের ছুটিকে মাথায় রেখে। এখন সেই সুবিধা আর নেই। তার মতে, ছবিটি পরে মুক্তি পেলে পরিবেশকরা সেই অগ্রিম টাকাকে ভবিষ্যতের আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে চাইতে পারেন। কিন্তু যদি বক্স অফিসে সেই টাকা না ওঠে, তাহলে ফেরত চাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। আরও পড়ুন: জন্মদিনেই যশের ‘টক্সিক’ ধামাকা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন - ছবিটি কবে মুক্তি পাবে? জানুয়ারিতে বড় তারকা-নির্ভর আর কোনো তামিল ছবি নেই। তবু সেন্সর জটিলতা আর আদালতের ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে মুক্তি পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২৩ জানুয়ারির কথা শোনা যাচ্ছে, কারণ ওই সময় ২৬ জানুয়ারির ছুটি মিলিয়ে চার দিনের লম্বা উইকএন্ড পাওয়া যাবে। তবে সেটি পঙ্গলের আট দিনের ছুটির তুলনায় অনেকটাই ছোট সময়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্তি দেরি হলেও প্রথম দিনের আয় নিয়ে খুব একটা চিন্তা নেই। বিজয়ের শেষ ছবি হওয়ায় প্রথম দিনে এখনও ১৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যবসা হতে পারে। কিন্তু পঙ্গলে মুক্তি পেলে যে ব্যবসা হতো, সেই সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। বিদেশের বাজারেও পঙ্গল বড় ফ্যাক্টর ছিল। সব মিলিয়ে, বিজয় ভক্তরা আপাতত হতাশ হলেও একটা কথা পরিষ্কার - থালাপাতি বিজয়ের ছবি যেদিনই মুক্তি পাক, হলে ভিড় হবে নিশ্চিত। এখন শুধু অপেক্ষা আদালতের শুনানি আর সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তের।