রুকাইয়া (রা.) ছিলেন নবীজির মেয়ে। তার জন্ম হয় নবীজির বয়স যখন ৩৩ বছর। উজ্জ্বল সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন তিনি। প্রথম বিয়ে হয় আবু লাহাবের ছেলে উতবা ইবনে আবু লাহাবের সঙ্গে। বিয়ের পর ঘর-সংসার হওয়ার আগেই পবিত্র কোরআনের সুরা লাহাব নাজিল হয়। আবু লাহাব ছিল আল্লাহর নবীর ঘোর শত্রু। সুরা লাহাবে আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিলের মারাত্মক সমালোচনা করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে আবু লাহাব ছেলেকে নির্দেশ দেয় তালাক দিতে। পিতার নির্দেশ অনুযায়ী তালাক দিয়ে দেয়।উতবা বিন আবু লাহাবের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর ওসমান বিন আফফান (রা.)-এর সঙ্গে রুকাইয়া (রা.)-এর বিয়ে হয়। উসমানের জন্ম হস্তীবাহিনীর ঘটনার ছয় বছর পর ৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে। তিনি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ছয় বছরের ছোট ছিলেন। কোরাইশদের প্রাচীন ইতিহাসে ছিল তার গভীর জ্ঞান। তার শালীনতা, লজ্জাবোধ, প্রজ্ঞা ও মানবিকতাবোধ ইত্যাদি গুণাবলির জন্য সবসময় তার পাশে মানুষের ভীড় থাকত। জাহেলি যুগের কোনো অপকর্ম তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। প্রখর আত্মমর্যাদাবোধ ছিল তার মহান চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যৌবনে তিনি অন্যান্য অভিজাত কোরাইশদের মতো ব্যবসা শুরু করেন। সীমাহীন সততা ও বিশ্বস্ততার গুণে ব্যবসায় অসাধারণ সাফল্য লাভ করেন। মক্কার সমাজে একজন বিশিষ্ট ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে ‘গনি’ উপাধি লাভ করেন। মক্কার আরও অনেক নেতার আচরণের বিপরীতে হজরত ওসমান (রা.) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের সূচনা-পর্বেই তার দাওয়াতে সাড়া দেন এবং আজীবন জানমাল ও সহায় সম্পত্তি দিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমিই ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম চারজনের মধ্যে চতুর্থ। ইবনে ইসহাকের মতে, আবু বকর (রা.), আলী (রা.), জায়িদ বিন হারেসা (রা.)-এর পরে ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি হজরত ওসমান (রা.)। নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে মক্কার মুশরিকদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রথম যে দলটি হাবশায় হিজরত করেছিলেন তাঁদের মধ্যে উসমান (রা.)ও তার স্ত্রী রুকাইয়া (রা.) ছিলেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘হাবশার মাটিতে প্রথম হিজরাতকারী উসমান ও তার স্ত্রী রুকাইয়া (রা.)।’ উসমান ও রুকাইয়া ছিলেন প্রথম হিজরতকারী মুসলিম পরিবার। লুত (আ.)-এরপর উসমান (রা.) আল্লাহর রাস্তায় পরিবার পরিজনসহ প্রথম হিজরতকারী । (আল-ইসাবা) বর্তমান সময়ে পারিবারিক প্রথা নড়বড়ে সাঁকোর মতো। পারিবারিক শান্তি নেই বললেই চলে। স্বামী-স্ত্রী পাল্লা দিয়ে চলে। স্বামী তার ভালোবাসা বিলায় অবৈধভাবে। আর স্ত্রীও তোয়াক্কা করে না স্বামীকে। স্বামীর দোষ বলে বেড়ায় সর্বত্র। স্বামীর দোষ বলতে মুখে বিন্দু পরিমাণও বাজে না। আরও পড়ুন: মেরাজে বিশেষ কোনো আমল আছে কি?আর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা কত সুন্দর ও মার্জনীয়! একবার হজরত রুকাইয়া (রা.) স্বামী উসমানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহর রসুলের দরবারে অভিযোগ দায়ের করতে চাইলেন। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নারীরা অন্য কারও কাছে নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে এটা আমার পছন্দনীয় নয়। যাও! নিজ গৃহে গিয়ে বসো। অভিযোগের কোনো সুযোগই দিলেন না। এই ছিল মেয়ের প্রতি বাবার শিক্ষা। যা দ্বারা তাদের ইহকাল-পরকাল উভয়ই সুসজ্জিত হতে পারে। আদর্শ দাম্পত্য জীবনের মূলমন্ত্র শিখিয়ে দিলেন। (আওজাজুস সিয়ার-ইবনে ফারেস, ফার্সি)