ফলের বাজারে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের

বাজারে নতুন নতুন দেশীয় ফল উঠেছে। এর প্রভাবে কিছুটা কমেছে বিদেশি ফলের দাম। তবে ‘এই কম দামেও’ স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। কারণ এখনো এক কেজি ভালো মানের আপেল কিনতে ক্রেতাদের ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও এক কেজি ভালো মানের আপেল ২০০ টাকায় কেনা যেতো। ফলের দাম ক্রেতাদের নাগালে নামিয়ে আনতে সরকারের কাজ করা উচিৎ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও শেওড়াপাড়া এলাকা ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর ও ফার্মগেটের কয়েকটি ফলের দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভালো মানের আপেল ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি, সাধারণ আপেল ২৫০ টাকা, কমলা ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, আনার ৪২০ টাকা, আঙ্গুর ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা ও নাশপাতি ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভ্যানে বিক্রি হওয়া ফলের দাম আরও কম। কারওয়ান বাজারের কয়েকটি ভ্যানে দেখা গেছে, আপেল ২২০ টাকা, কমলা ২০০ টাকা ও মাল্টা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও কমলা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতেও। আবার ‘কমলা-আপেল ২০০ টাকা’ হাকডাক দিয়েও দেদারসে বিক্রি চলছে। দাম বিষয়ে ইব্রাহিমপুরের ফলের দোকানি মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন বিদেশি ফলের মৌসুম। আবার দেশীয় ফলের মৌসুমও চলছে। শীতের কারণে ফলের চাহিদাও কম। এসব কারণে অন্য সময়ের চেয়ে ফলের দাম এখন কিছুটা কম।’ তিনি বলেন, ‘দেশী ফলের মধ্যে বড়ই ও পেয়ারা এখন বেশ চলছে। এ কারণে বিদেশী ফলে মানুষের আগ্রহ কম। কেউ বেড়াতে গেলে কিংবা রোগী দেখতে গেলে এক থেকে দুই কেজি ফল কিনে নিয়ে যায়।’ একই ধরনের কথা বলেন ফার্মগেটের ফলের ব্যবসায়ী মুহিন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ভালো মানের আপেলের দাম ৩৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এখন ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি করছি। মাল্টা ৩৫০ টাকার নিচে কেনা যেত না, এখন ২৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে। সব ফলের দামই কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম রয়েছে।’ সঙ্গে সন্তানকে নিয়ে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ভবনের সামনের ফুটপাতে ফল কিনছিলেন আফতাবনগরের বাসিন্দা কাকলী। কথা হলে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘সন্তানের জন্য নিয়মিত ফল কিনতে হয়। অন্য সময়ের চেয়ে ফলের দাম এখন কিছুটা কম। তবে ফল এখনো সাধারণ মানুষের নাগালে এসে যায়নি।’ ফার্মগেটে কথা হলে সামিউর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘৫০০ টাকায় আগে অনায়াসে দুই কেজি ফল কেনা যেতো। এখনো কোনো কোনো ফলের কেজি ৪০০ টাকার ওপরে। আর ১ হাজার টাকায় ৩ কেজির বেশি ফল কেনা যায় না। এই দামে সাধারণ মানুষ আসলে ফল কিনে খেতে পারবে না।’ কারওয়ান বাজারে কথা হলে ফাহিম বলেন, ‘এখনো ফল কিনতে ভাবতে হয়। যদিও এখন দাম কিছুটা কম। তারপরেও কোনো কোনো সময় হাফ কেজি ফলও কিনি। কিন্তু আগে কখনোই হাফ কেজি ফল কিনিনি। বাধ্য হয়েই এখন ফল কেনা কমিয়েছি।’ এদিকে বাজারে নতুন দেশীয় ফল বরই উঠেছে। এর বাইরে রয়েছে পেয়ারা। বরই প্রকারভেদে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর পেয়ারার কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। কারওয়ান বাজারে ফলের দোকানি আরমান মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘১০ থেকে ১৫ দিন ধরে বরই উঠেছে। তাই দাম বেশি। নতুন হওয়ায় দাম বেশি। সপ্তাহ খানেক পর বরইয়ের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি জানান, ‘ভালো মানের আপেল বরই ২৫০ টাকা কেজি ও বলসুন্দরী বরই ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। প্রসঙ্গত, শীতের কারণে বাজারে কলার চাহিদা কমেছে। ভালো মানের সবরি কলা ৩০ টাকা, চম্পা ২০ টাকা ও সাগর কলা ৫০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের কলা বিক্রেতা আব্দুল সামাদ বলেন, এখন কলার চাহিদা নেই। মানুষ খায় কম। আবার বাজারে এখন কলাও কম। তবে নেপালি কলার দাম কম থাকলেও নরসিংদীর কলার দাম এখনো বেশি। ইএইচটি/এমএমকে/এএসএম