দেড় বছরেও অধ্যক্ষের পদ ফিরে পাননি আব্দুল হালিম

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি ১৮০ দিনের (৬ মাস) মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ শহরের সবুজ কানন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হালিমের পদ গত দেড় বছরেও ফেরেনি। অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ আলম। প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, আব্দুল হালিম ২০২১ সালের ১ নভেম্বর থেকে সবুজ কানন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট কিছু শিক্ষকের প্ররোচনায় বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থী তার অপসারণের দাবি তোলেন। পরে ওইদিন বিকেলে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্তপূর্বক চাকরি পুনর্বহাল ও পূর্ণাঙ্গ বেতন-ভাতা প্রাপ্তির দাবিতে প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিকবার আবেদন করলেও কোনো সমাধান হয়নি। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম সই করা এক পরিপত্রে জানানো হয়, স্বীকৃত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যথায় ১৮০ কার্যদিবস শেষে ওই শিক্ষক-কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীয় পদে পুনর্বহাল হয়ে বিধি মোতাবেক পূর্ণ বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। যা সাময়িক বরখাস্তের তারিখ থেকে এই সময় গণনা করতে হবে বলে পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম অভিযোগ করে বলেন, ‌‘আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রায় দেড় বছর হয়ে গেছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। অথচ সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদকাল বিধি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর শেষ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সফটওয়ারে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যথারীতি বেতন-ভাতা পেয়ে আসছিলাম। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়মবহির্ভূতভাবে পূর্ণাঙ্গ বেতনের স্থলে অর্ধেক বেতন ইএফটি সফটওয়ারের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন। সাময়িক বরখাস্তের কোনো সমাধান না হওয়ায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বাইরে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদ আলম বলেন, ‘বর্তমান প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। চার সদস্যের একটি আডহক কমিটি রয়েছে। এই কমিটির বাইরে আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।’ পূর্ণাঙ্গ বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাময়িক বরখাস্ত থাকায় ইএফটি সফটওয়ারের মাধ্যমে তিনি অর্ধেক বেতন পাচ্ছেন। এতে তার কোনো হাত নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই তদন্তে ভুক্তভোগী শিক্ষকের কোনো বক্তব্য নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এসব কারণে বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছে। তবে চলতি মাসে গভর্নিং বডির পরবর্তী সভায় চাকরি পুনর্বহালের বিষয়টি উপস্থানের জন্য লিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এম এ মালেক/এসআর/এএসএম