কমিশনের বৈঠক শেষে পে-স্কেল নিয়ে যা জানা গেল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে।নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন কত হবে, তা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কমিশনে তিনটি পৃথক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট অনুপাত চূড়ান্ত করার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে পে-কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড) নির্ধারণে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২১ হাজার টাকা, দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার টাকা এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এদিন প্রেজেন্টেশন দেয়া হয়েছে, তবে কোনো প্রস্তাবই এখনও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। আরও পড়ুন: বেতন গ্রেড নিয়ে প্রাথমিকের প্রধান ‍শিক্ষকদের জন্য সুখবর সভা সূত্রে জানা গেছে, এই তিনটি প্রস্তাবের মধ্য থেকেই যে কোনো একটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হতে পারে। তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা এখনও সমন্বয় না হওয়ায় সর্বোচ্চ বেতন ঠিক কত হবে, তা এখনই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে, নবম পে-স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ১:১০ ও ১:১২ অনুপাত নিয়ে আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১:৮ অনুপাতটিই প্রাধান্য পেয়েছে। এই অনুপাত কার্যকর হওয়ার অর্থ হলো— ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন যদি ১০০ টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তার মূল বেতন হবে ৮০০ টাকা।পে-কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পূর্ণ কমিশনের সভায় সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান, মো. ফজলুল করিম, মো. মোসলেম উদ্দীন এবং সদস্য সচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।যদিও বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি, তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, পরবর্তী সভায় এই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।